আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰একক প্রস্তুতি জামায়াতের , এনসিপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার শঙ্কা📰দর্শনা-লোকনাথপুর সড়কে রাতের আঁধারে গাছ কেটে ফেলে রাখায় রহস্য ঘনীভূত📰আলমডাঙ্গার প্রাপগপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দু’পক্ষের আহত ৭ 📰চুয়াডাঙ্গায় নজরুল উৎসবের পঞ্চম দিনে মঞ্চস্থ রিক্তের বেদন📰চুয়াডাঙ্গার ভান্ডারদহে গৃহবধূকে আহত করে সোনার চেইন ছিনতাই📰আলমডাঙ্গা পরোয়ানাভুক্ত নারীসহ ৪ জন গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার📰দর্শনায় কাঠ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখমের অভিযোগ📰চুয়াডাঙ্গায় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত📰দামুড়হুদায় বুলডেজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো দুই অবৈধ ইটভাটা📰মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ১৪ বছরেও ফেরেননি গাংনীর নিখোঁজ চারজন
হোম পেজদেশের খবরখুলনা বিভাগচুয়াডাঙ্গায় বাজার তদারকি জোরদারের সিদ্ধান্ত; অনিয়মে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি

চুয়াডাঙ্গায় বাজার তদারকি জোরদারের সিদ্ধান্ত; অনিয়মে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি




নিজস্ব প্রতিবেদক:

চুয়াডাঙ্গায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যৌক্তিক ও সহনীয় পর্যায়ে রাখা, খাদ্যপণ্যের মান নিশ্চিত করা এবং বাজারে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম বন্ধে তদারকি জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, বিরিয়ানির দোকান, শিশুখাদ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠান ও কাঁচাবাজারে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি খাবারের মান, পরিচ্ছন্নতা, পণ্যের সঠিক ওজন এবং পরিবেশদূষণের বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য যৌক্তিক ও সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি. এম. তারিক-উজ-জামান। সভার কার্যবিবরণী উপস্থাপন করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ফাহাদ চৌধুরী।
সভায় বাজারে পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, খাদ্যপণ্যের নিরাপত্তা এবং ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে হোটেল-রেস্তোরাঁয় বাসি ভাত পুনরায় পরদিন সকালে খিচুড়ি রান্না করে বিক্রি, বেকারির খাদ্যপণ্যের মান, শিশুখাদ্যের নিরাপত্তা এবং মুরগি জবাই ও পরিষ্কারের ক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে বি. এম. তারিক-উজ-জামান বলেন, বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শুধু পণ্যের দাম জিজ্ঞাসা করে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না, বিক্রেতারা নির্ধারিত বা যৌক্তিক দামের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করছেন কী-না, তা নিয়মিত যাচাই করতে হবে। একই সঙ্গে পণ্যের সঠিক ওজন, খাদ্যের মান এবং পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও নজরদারি বাড়াতে হবে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবারের মান ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে রান্না করা খাবার সংরক্ষণ এবং পুনরায় ব্যবহারের বিষয়টি উঠে আসে। আলোচনায় বলা হয়, কোনো কোনো হোটেলে সকালে রান্না করা ভাত সারাদিনে বিক্রি না হলে তা পরদিন সকালে খিচুড়ি রান্নায় ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের চর্চা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। খাবার যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করে পরদিন পুনরায় রান্না করে বিক্রি করলে খাদ্যদূষণ ও খাদ্যবাহিত অসুস্থতার আশঙ্কা থাকে। তাই হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে খাবার তৈরি, সংরক্ষণ ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কী-না, তা নিয়মিত পরিদর্শনের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। এ ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দেয়া হয়। সভায় জেলার বিভিন্ন বেকারিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়। বেকারিতে ব্যবহৃত কাঁচামালের মান, খাদ্যপণ্য তৈরির পরিবেশ, সংরক্ষণব্যবস্থা এবং পণ্যের উৎপাদন ও মেয়াদসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। এছাড়া জেলার বিরিয়ানির দোকানগুলোতে শুধু খাবার পরিবেশনের স্থান নয়, রান্নার জায়গাও নিয়মিত তদারকির আওতায় আনার বিষয়ে আলোচনা হয়। রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ পানি ব্যবহার, কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদাভাবে রাখা এবং কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়গুলো নিশ্চিত করার ওপর জোর দেয়া হয়। শিশুখাদ্যের নিরাপত্তা নিয়েও সভায় বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। আলোচনায় বলা হয়, বাজারে বিক্রি হওয়া কিছু পণ্য শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই শিশুখাদ্যের মান, পণ্যের মোড়কে থাকা তথ্য, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং সংরক্ষণব্যবস্থা যাচাই করতে হবে। শিশুদের জন্য অনিরাপদ বা নিম্নমানের পণ্য বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। চুয়াডাঙ্গা বড় বাজারে মুরগি বিক্রির পর ক্রেতাদের অনেকে দোকান থেকেই মুরগি জবাই ও পরিষ্কার করিয়ে নেন। এ কাজে ব্যবহৃত গরম পানির পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। আলোচনায় বলা হয়, সকালে পানি গরম করে তা সারা দিন ধরে মুরগি পরিষ্কারের কাজে ব্যবহার করা হয়। দীর্ঘ সময় একই পানি ব্যবহার করলে তা অপরিচ্ছন্ন হয়ে পড়তে পারে এবং খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ পরিস্থিতিতে মুরগি জবাই ও পরিষ্কারের কাজে নিরাপদ পানি ব্যবহার, প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পরিবর্তন এবং সংশ্লিষ্ট স্থান পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। ব্যবসায়ীদের এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করতে সতর্ক করার কথা বলা হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তদারকি অব্যাহত রাখার তাগিদ দেয়া হয়। এছাড়া বড় বাজারে মুরগি জবাইয়ের পর রক্ত, নাড়িভুঁড়ি ও অন্যান্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও সভায় গুরুত্ব পায়। এসব বর্জ্য ড্রেনের মাধ্যমে মাথাভাঙ্গা নদীতে ফেলা হলে পানি ও পরিবেশ দূষিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে নদীর জীববৈচিত্র্য, জনস্বাস্থ্য এবং আশপাশের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সভায় ব্যবসায়ীদের এ ধরনের বর্জ্য মাথাভাঙ্গা নদীতে না ফেলতে সতর্ক করা হয়। বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে সংগ্রহ ও যথাযথভাবে অপসারণের ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। পাশাপাশি প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের তাগিদ দেয়া হয়। একই ধরনের অনিয়ম পুনরায় করলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
এদিকে, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথাও সভায় তুলে ধরা হয়। কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পণ্যের দাম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা প্রকৃতপক্ষে কত দামে পণ্য বিক্রি করছেন, তা যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। সভায় বলা হয়, বাজারে পণ্যের মূল্য সম্পর্কে শুধু জিজ্ঞাসাবাদ করলেই হবে না, কেনা ও বিক্রির মূল্য, পণ্যের সরবরাহ এবং বিক্রয়মূল্যের যৌক্তিকতা বিবেচনায় নিয়ে তদারকি করতে হবে। কোনো ব্যবসায়ী অযৌক্তিকভাবে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করছেন কী-না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল স্কেলে সঠিক ওজন দেয়া হচ্ছে কী না, তা পরীক্ষা করতে হবে, যাতে ক্রেতারা পণ্যের ন্যায্য মূল্য পরিশোধ করে সঠিক পরিমাণ পণ্য পান। বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি কিংবা ওজনে কারচুপির মতো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান, বাজার পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম, পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নার্গিস জাহান, দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মঞ্জুরুল আলম মালিক লার্জ, সাধারণ সম্পাদক সুমন পারভেজ, দপ্তর সম্পাদক হেমন্ত কুমার সিংহ রায়, হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি শেখ পেয়ার মুহাম্মদসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ