নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা শহরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে মিথাইল অ্যামফিটামিনযুক্ত ৩৭৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে ইয়াবা বিক্রির ১ লাখ ৭৮ হাজার ৫০০ টাকা, দুটি মুঠোফোন, একটি সিসি ক্যামেরা এবং নিবন্ধনবিহীন একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। আরেকজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২১ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সড়কে বাদল স্টোর নামের একটি মুদি দোকান এবং শহরের টিএণ্ডটি পাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে এসব মাদকদ্রব্য ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে আটক ব্যক্তিরা হলেন চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার পোস্ট অফিস পাড়ার কামাল শেখের ছেলে অন্তর শেখ (৩২), দামুড়হুদা উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে মোফাজ্জেল হক (৪৭) এবং সদর উপজেলার বাগানপাড়ার আশরাফুল আলমের ছেলে সাব্বির হোসেন (২৫)। মোফাজ্জেল হক টিএন্ডটি পাড়ার ওই ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন।
অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতাল সড়কের বাদল স্টোরের ক্যাশ বাক্সের ভেতর পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ১০০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। এসব ইয়াবার ওজন ১০ গ্রাম। দোকানের ক্যাশ বাক্স থেকে মাদক বিক্রির ১ লাখ ৭৮ হাজার ৫০০ টাকাও উদ্ধার করা হয়। এছাড়া দোকানের সামনে থেকে চাবিসহ নিবন্ধনবিহীন একটি নেভি ব্লু রঙের ইয়ামাহা মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। দোকানটির মালিকানায় থাকা ব্যক্তির ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোনও জব্দ করা হয়েছে। অভিযানের দ্বিতীয় পর্যায়ে টিএনটি পাড়ায় হাজী নজরুল ইসলামের পাঁচতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে একটি শয়নকক্ষের কাঠের আলমারির ওপরের তাকে কাপড়ের আড়ালে লুকানো অবস্থায় পলিথিনে মোড়ানো ২৭৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এসব ইয়াবার ওজন ২৭ দশমিক ৫ গ্রাম। ওই ব্যক্তির কাছ থেকে আরও দুই পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া তার ব্যবহৃত একটি মুঠোফোন ও একটি সিসি ক্যামেরা জব্দ করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, অন্তর শেখ ও সাব্বির বিরুদ্ধে অধিদপ্তরের পরিদর্শক মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় নিয়মিত মামলা করেছেন। অন্যদিকে মোফাজ্জেল হককে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আশিস মোমতাজের ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২১ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রফিকুল ইসলাম অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আলমডাঙ্গা অফিস জানিয়েছে, আলমডাঙ্গায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১২০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার খেজুরতলা বাজারসংলগ্ন বটতলার নিচে পাকা সড়ক থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সোনা মিয়া (২৩) ও মানিক হোসেন (২৯)। তাদের বাড়ি উপজেলার জোড়গাছা গ্রামে। পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা ট্যাবলেটগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ১৮ হাজার টাকা।
আলমডাঙ্গা থানা-পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ারের নির্দেশনায় এবং আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জের তত্ত্বাবধানে এ অভিযান চালানো হয়। খাসকররা পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোলাম হোসেন সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন। পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির হেফাজত থেকে ১২০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার করা ট্যাবলেট জব্দ তালিকাভুক্ত করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।


