নিজস্ব প্রতিবেদক:
জীবননগরে লিজ নেওয়া জমিতে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তোলা মাল্টা, পেয়ারা ও বেগুনের বাগান কেটে ও উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। বাগানের মালিকের দাবি, এক রাতের মধ্যে ফল ও সবজি গাছ নষ্ট করে এবং নিরাপত্তাবেষ্টনী তুলে নিয়ে যাওয়ায় তাঁর প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় জীবননগর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
অভিযোগকারী নাজমুল হোসেন (৩৬) জীবননগর উপজেলার পিয়ারাতলা উত্তরপাড়া এলাকার আলী হোসেনের ছেলে। তিনি আবুল কাশেমের কাছ থেকে লিজ নিয়ে উপজেলার খয়েরহুদা রিফুজিপাড়ার কলুরচারা মাঠের একটি জমিতে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা ও পেয়ারা চাষ করে আসছিলেন। পাশাপাশি সাথি ফসল হিসেবে বেগুনও আবাদ করেছিলেন। ফসল রক্ষায় জমির চারপাশে সিমেন্টের খুঁটি ও তার দিয়ে নিরাপত্তাবেষ্টনী নির্মাণ করেছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তিনি। নাজমুল হোসেনের অভিযোগ, খয়েরহুদা রিফুজিপাড়ার মৃত ইদ্রিস মণ্ডলের ছেলে জামাল উদ্দিন (৫৬) ওই জমি নিজেদের দাবি করে তাকে জায়গা ছেড়ে দেয়ার জন্য বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছিলেন। অভিযোগে নাজমুল বলেন, গত ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তিনি বাগানটি দেখে বাড়িতে ফিরে যান। পরদিন ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল সাতটার দিকে আবার বাগানে গিয়ে দেখেন, মাল্টা ও পেয়ারা গাছসহ বেগুনের গাছগুলো কেটে ও উপড়ে ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে ফসল রক্ষার জন্য তৈরি করা সিমেন্টের খুঁটি ও তারের বেড়াও তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে তার প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন নাজমুল। বাগানের এমন অবস্থা দেখে তিনি হতাশ হয়ে পড়েন। স্থানীয় কয়েকজন বিষয়টি দেখেছেন ও শুনেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি। ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নিতে গিয়ে থানায় অভিযোগ করতে কিছুটা দেরি হয়েছে বলেও জানান নাজমুল।
অভিযোগে ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ ৬৬ শতক উল্লেখ করা হয়েছে। জমিটির আরএস খতিয়ান নম্বর ১৪৩৫, দাগ নম্বর ৪৫৩২ এবং মৌজা নম্বর ২৯। নাজমুল হোসেনের অভিযোগ, একই জমি নিয়ে গত আগস্ট মাসেও তিনি জীবননগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। সেই অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, আবুল কাশেমের কাছ থেকে লিজ নেওয়া দুই বিঘা জমিতে তিনি পেয়ারা, মাল্টা এবং সাথি ফসল হিসেবে বেগুন ও ঘাস চাষ করছিলেন। ফসল রক্ষায় জমির চারপাশে সিমেন্টের খুঁটি ও তারের বেড়া দিয়েছিলেন।
ওই অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৯ আগস্ট সকাল সাড়ে আটটার দিকে এনামুল হক (৪৫), সাইদ হোসেন (৩৫), জামাল হোসেন (৬০), কামাল হোসেন (৩৫) ও শহিদুল ইসলামসহ (৬২) কয়েকজন লাঠিসোঁটা, দা ও কোদাল নিয়ে ওই জমিতে প্রবেশ করেন। পরে তাঁরা বাগানের ফল ও সবজি গাছ কেটে ফেলেন এবং নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে ও কেটে দেন। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন নাজমুল। তার আরও অভিযোগ, ওই ঘটনার প্রতিবাদ করলে তাকে প্রকাশ্যে খুন ও জখমের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি জমিতে গেলে তাকে জবাই করে সেখানেই লাশ পুঁতে ফেলার হুমকি দেয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। অভিযোগে নাজমুল আরও উল্লেখ করেন, অভিযুক্তদের আপন ভাই নুর ইসলামের কাছ থেকে তিনি আরও চার বিঘা জমি লিজ নিয়ে সেখানে ফলন্ত মাল্টা ও কমলার বাগান করেছেন। ওই বাগানটিও একইভাবে কেটে দিয়ে তাকে নিঃস্ব করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তার অভিযোগ। এতে তিনি আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন এবং যেকোনো সময় ওই বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ সোলায়মান শেখ বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


