দর্শনা অফিস:
দর্শনায় একটি নুরানী কিন্ডারগার্টেন মাদ্রাসার অফিস কক্ষের লোহার গ্রিল ভেঙে চুরির ঘটনায় রিয়াদ হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। চুরির পরপরই অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকা মূল্যের মালামাল উদ্ধার করা হয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ ও পুলিশের সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে রিয়াদকে শনাক্ত করে আটক করা হয়। আদালতে হাজির করা হলে তাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে আটটার দিকে দর্শনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোল্লা আরিফুল ইসলাম খবর পান, দর্শনা থানার মোহাম্মদপুর গ্রামের নুরানী কিন্ডারগার্টেন মাদ্রাসার ভবনের অফিস কক্ষের লোহার গ্রিল ভেঙে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা ভেতরে ঢুকে বিভিন্ন মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে। খবর পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান শুরু করে দর্শনা থানার পুলিশ। চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ তত্ত্বাবধানে পুলিশের একটি দল তথ্য সংগ্রহ ও অভিযান চালাতে থাকে। একপর্যায়ে গোপন তথ্য ও পুলিশের সোর্সের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে, চুরি যাওয়া মালামাল মোহাম্মদপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীন (৫৩) নামের এক ব্যক্তির একটি পরিত্যক্ত ভবনের ভেতরে রাখা হয়েছে। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে মাদ্রাসা থেকে চুরি যাওয়া একটি কম্পিউটার মনিটর, একটি সিসিটিভি মনিটর, একটি সিপিইউ, একটি সিসি ক্যামেরা ও একটি হার্ডডিস্ক উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৫ হাজার টাকা।
পুলিশের ভাষ্য, চুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি সোর্সের দেওয়া তথ্যও যাচাই করা হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে রিয়াদ হোসেনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয়। এরপর মঙ্গলবার রাতেই অভিযান চালিয়ে রিয়াদ হোসেনকে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত ও আটকের কারণে মামলাটির আইনগত কার্যক্রমও দ্রুত এগিয়ে নেয়া সম্ভব হয়। গতকাল বুধবার রিয়াদ হোসেনকে আদালতে হাজির করা হলে তাকে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচারের জন্য বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সংক্ষিপ্ত বিচার আদালত) আদালতে উপস্থাপন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত রিয়াদ হোসেনকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চুরির মতো ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে সিসিটিভি ফুটেজ, স্থানীয় তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তা কাজে লাগানো হচ্ছে। দর্শনার এই ঘটনায় দ্রুত চোরাই মালামাল উদ্ধার এবং আদালতের মাধ্যমে সাজা হওয়াকে পুলিশের তৎপরতার ফল হিসেবে দেখা হচ্ছে।


