দর্শনা অফিস:
চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় রাতের আঁধারে মশাল মিছিলের ঘটনায় করা মামলায় দামুড়হুদা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফুল ইসলাম আরিফ মল্লিককে (৪২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার রাত ১০টার দিকে দর্শনা পৌরসভার শ্যামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আরিফুল ইসলাম আরিফ মল্লিক দর্শনা পৌরসভার শ্যামপুর গ্রামের মৃত তনু মল্লিকের ছেলে। পুলিশ বলছে, তিনি একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে দর্শনা থানা এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের একটি মশাল মিছিল হয়। মিছিলে আগুন জ্বালিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে ওই মিছিলের ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। পুলিশের ভাষ্য, মশাল মিছিলের ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এর পরদিন দর্শনা থানার একজন কর্মকর্তা বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২৫ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে। ওই মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় দামুড়হুদা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফুল ইসলাম আরিফ মল্লিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার রাত ১০টার দিকে দর্শনা পৌর এলাকার শ্যামপুর গ্রামে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের দামুড়হুদা উপজেলা সভাপতি আরিফুল ইসলাম আরিফ মল্লিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে রাতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ওসি আরও বলেন, অন্যান্য সন্ত্রাসী ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে দর্শনা থানা-পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৩ সেপ্টেম্বরের ওই মশাল মিছিলের পর থেকেই এলাকায় এ নিয়ে আলোচনা চলছিল। মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই পুলিশ অভিযান ও গ্রেপ্তার কার্যক্রম জোরদার করেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।


