দর্শনা অফিস:
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা-লোকনাথপুর সড়কে রাতের আঁধারে একটি গাছ কেটে রাস্তার ওপর ফেলে রাখার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে কোনো এক সময় গাছটি কেটে সড়কের ওপর ফেলে রাখা হয় বলে স্থানীয় লোকজনের ধারণা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পথচারীরা গাছটি পড়ে থাকতে দেখে বিপাকে পড়েন। এতে সড়কে যানবাহন ও মোটরসাইকেল চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। তবে কে বা কারা, কী উদ্দেশ্যে গাছটি কেটেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দর্শনা-লোকনাথপুর-পরানপুর গ্রামের সংযোগ সড়ক দিয়ে চুয়াডাঙ্গার দিকে যাওয়ার পথে লোকনাথপুর এলাকায় সড়কের ওপর গাছটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। সড়কের পাশের গাছটি কেটে এমনভাবে ফেলে রাখা হয়েছিল, যাতে চলাচলের পথে বাধার সৃষ্টি হয়। সকালে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীরা গাছটি দেখে বিপাকে পড়েন। ঘটনাটি নিয়ে দিনভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলে। সড়কের ওপর গাছ ফেলে রাখার পেছনে কোনো অপরাধমূলক উদ্দেশ্য ছিল কী-না, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। কেউ কেউ ডাকাতির উদ্দেশ্যে সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরির আশঙ্কা প্রকাশ করলেও এ ধরনের কোনো অপরাধের সঙ্গে ঘটনাটির সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা রাতের আঁধারে গাছ কাটার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রশ্ন, সড়কের পাশে থাকা গাছটি কে বা কারা কাটল, কেনই-বা সেটি রাস্তার ওপর ফেলে রাখা হলো? তবে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা চললেও গাছ কাটার সময়, উদ্দেশ্য ও জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে দর্শনা ও দামুড়হুদা থানার পুলিশের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা গেছে। দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম বলেন, সকালে ঘটনাটি শোনার পরই তিনি পুলিশ সদস্যদের পাঠিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। তার ভাষ্য, গাছ কেটে সড়কে ফেলে রাখার ঘটনাটি লোকনাথপুরের ভেতরে, যা দামুড়হুদা থানার আওতাধীন এলাকায় পড়েছে। তারপরও বিষয়টি নিয়ে তারা তদন্ত করছেন।
অন্যদিকে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রাসেল বলেন, বৃহস্পতিবার সারাদিনে গাছ কাটা-সংক্রান্ত কোনো ঘটনা বা অপরাধের বিষয়ে তিনি জানেন না। এ ধরনের কোনো তথ্যও তার কাছে আসেনি। রাত নয়টার পর আবার যোগাযোগ করা হলে ওসি মোহাম্মদ রাসেল বলেন, গাছটি অনেক আগেই কাটা হয়েছিল। গাছ কাটা নিয়ে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্যও পাওয়া যায়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল দর্শনা থানা-পুলিশ পরিদর্শন করেছে।
একদিকে রাতের আঁধারে গাছ কেটে সড়কের ওপর ফেলে রাখার অভিযোগ, অন্যদিকে এ বিষয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য না পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। ফলে ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের কৌতূহল ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গাছটি ঠিক কখন কাটা হয়েছিল, কে বা কারা এটি কেটেছে এবং সড়কের ওপর ফেলে রাখার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকাবাসী।


