দামুড়হুদা অফিস:
দামুড়হুদা উপজেলায় পরিবেশদূষণকারী অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। গতকাল বৃহস্পতিবার দিনভর অভিযানে উপজেলার দুটি ইটভাটাÑসনি ব্রিকস ও দোয়েল ব্রিকসের স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বুলডোজার দিয়ে ভাটার চিমনি, চুল্লি ও অন্যান্য স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারি নীতিমালা না মেনে পরিচালিত অন্যান্য অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধেও পর্যায়ক্রমে অভিযান চালানো হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় উপজেলার জয়রামপুর শেখপাড়ায় একটি কলেজের পাশে অবস্থিত সনি ব্রিকস ভাঙার মধ্য দিয়ে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। সেখানে ভাটার বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে ফেলার পর প্রশাসনের দল একই উপজেলার দোয়েল ব্রিকসে অভিযান চালায়। সেখানেও ভাটার স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলা হয়। অভিযান চলাকালে এলাকায় প্রশাসনের ব্যাপক তৎপরতা দেখা যায়। অবৈধ ইটভাটার মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিবেশদূষণ রোধ ও আইন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজ্জাদ হোসেন। এ সময় চুয়াডাঙ্গা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নরেশ চন্দ্র বিশ্বাস, দামুড়হুদা থানা-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সনি ব্রিকস ও দোয়েল ব্রিকস দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। সরকারি নীতিমালা না মেনে ইটভাটা পরিচালনার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি ও কৃষিজমির কাছাকাছি ভাটা স্থাপনের কারণে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সরকারি নীতিমালার বাইরে থাকা ইটভাটাগুলো পর্যায়ক্রমে ভেঙে ফেলা হবে। যেসব ইটভাটা সরকারি নীতিমালা মেনে পরিচালিত হবে, সেগুলো চালু থাকতে পারবে। তবে নীতিমালা অমান্যকারী ভাটাগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলায় তালিকাভুক্ত ও তালিকার বাইরে মিলিয়ে ২০টির বেশি ইটভাটা রয়েছে। এর অধিকাংশেরই বৈধ কাগজপত্র নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। সরকারের ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) অনুযায়ী অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা। তাদের মতে, অবৈধ ইটভাটার ধোঁয়া ও দূষণের কারণে আশপাশের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কার পাশাপাশি শিশু ও বয়স্কদের শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। তাই শুধু অভিযান চালানো নয়, নিয়মিত তদারকি এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ব্যবস্থা নেয়াও জরুরি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবেশ সুরক্ষা এবং সরকারি নীতিমালা বাস্তবায়নে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।


