কার্পাসডাঙ্গা প্রতিনিধি:
দামুড়হুদা উপজেলার জুড়ানপুর গ্রামে একটি বকনা গরুকে ঘিরে ওঠা অনৈতিক ও অপ্রাকৃতিক আচরণের অভিযোগের তিন দিন পর সেটিকে হত্যা করে মাটিচাপা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের গরুটিকে হত্যার ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, অভিযোগ যদি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে হয়ে থাকে, তাহলে নিরীহ প্রাণীটিকে কেন হত্যা করা হলো?
জানা গেছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর জুড়ানপুর গ্রামের মাদ্রাসাপাড়ায় পটু সদ্দারের ছেলে মন্টু সদ্দারের বিরুদ্ধে তার গোয়ালঘরে একটি বকনা গরুর সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে সামাজিক চাপ ও ভীতির কারণে মন্টু সদ্দার বাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। এর তিন দিন পর স্থানীয় সমাজের কয়েকজন ব্যক্তি উদ্যোগ নিয়ে জীবিত বকনা গরুটিকে হত্যা করে মাটিচাপা দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গরুটির মালিকের প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ঘটনাটি নিয়ে এখন মূল অভিযোগের পাশাপাশি গরু হত্যার ঘটনাটিও আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিদের কেউ কেউ বলছেন, কোনো অপরাধের অভিযোগ উঠলে তার সত্যতা যাচাই ও বিচার আইনগত প্রক্রিয়ায় হওয়ার কথা। সেখানে অভিযোগের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত বলে বিবেচিত একটি প্রাণীকে হত্যা করে মাটিচাপা দেয়ার সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে গরুটিকে জীবিত অবস্থায় নিরাপদে রাখা এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি পরীক্ষা করা যেত। কিন্তু সেটিকে হত্যা করে মাটিচাপা দেয়ায় ঘটনার প্রকৃত তথ্য যাচাইয়ের সুযোগও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সামাজিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা না করে কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত না করে গরুটিকে হত্যা করার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা দরকার। একই সঙ্গে মূল অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার দাবি উঠেছে। আইনগত দিক থেকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। তারা জানান, বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারায় কোনো ব্যক্তির প্রাণীর সঙ্গে অপ্রকৃতিগত যৌনাচারের শাস্তির বিধান রয়েছে। পাশাপাশি প্রাণিকল্যাণ আইন, ২০১৯-এ প্রাণীর প্রতি অপ্রয়োজনীয় নিষ্ঠুর আচরণকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ফলে অভিযোগের ক্ষেত্রে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিদের দাবি, অভিযোগটি সত্য কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রায় ৫০-৫৫ হাজার টাকা মূল্যের গরুটিকে হত্যা ও মাটিচাপা দেয়ার ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন, কীভাবে সিদ্ধান্তটি নেয়া হয়েছিল এবং এর পেছনে কোনো আইনগত ভিত্তি ছিল কি নাÑসেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। এদিকে অভিযোগ ওঠার পর থেকে অভিযুক্ত মন্টু সদ্দার এলাকায় নেই বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন বলেন, ওসি সাহেবকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।


