আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰একক প্রস্তুতি জামায়াতের , এনসিপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার শঙ্কা📰দর্শনা-লোকনাথপুর সড়কে রাতের আঁধারে গাছ কেটে ফেলে রাখায় রহস্য ঘনীভূত📰আলমডাঙ্গার প্রাপগপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দু’পক্ষের আহত ৭ 📰চুয়াডাঙ্গায় নজরুল উৎসবের পঞ্চম দিনে মঞ্চস্থ রিক্তের বেদন📰চুয়াডাঙ্গার ভান্ডারদহে গৃহবধূকে আহত করে সোনার চেইন ছিনতাই📰আলমডাঙ্গা পরোয়ানাভুক্ত নারীসহ ৪ জন গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার📰দর্শনায় কাঠ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখমের অভিযোগ📰চুয়াডাঙ্গায় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত📰দামুড়হুদায় বুলডেজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো দুই অবৈধ ইটভাটা📰মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ১৪ বছরেও ফেরেননি গাংনীর নিখোঁজ চারজন
হোম পেজদেশের খবরখুলনা বিভাগধানের ক্ষেত থেকে বিচারকের আসনে আলমডাঙ্গার আনারুল

১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণঃ 

ধানের ক্ষেত থেকে বিচারকের আসনে আলমডাঙ্গার আনারুল




আল-আমিন হোসেন পরশ:

এক হাতে কৃষিকাজ, অন্য হাতে বই। জীবিকার প্রয়োজনে মাঠে কাজ করেছেন, আবার সেই কাজের ফাঁকেই পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। মাত্র চার বছর বয়সে বাবাকে হারিয়েছেন। ছয় ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট আনারুল ইসলাম অভাব-অনটন ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনার পথ থেকে সরে যাননি। দীর্ঘ সংগ্রাম ও অধ্যবসায়ের পর ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়ে সহকারী জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের চর শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত হারেজ মোল্লার ছেলে আনারুল ইসলাম। তার এই সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবার, স্বজন, শিক্ষক, বন্ধু ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। শৈশবেই বাবাকে হারানো আনারুল বড় ভাইয়ের সঙ্গে কৃষিকাজ করে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মাঠে কাজ করার পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সহজ ছিল না। তবে জীবিকার তাগিদে কাজ করতে হলেও শিক্ষার প্রতি তার আগ্রহ কখনো কমেনি। কৃষিকাজ ও পড়াশোনার মধ্যে সমন্বয় করেই এগিয়ে গেছেন তিনি। আনারুলের শিক্ষাজীবন শুরু হয় জগন্নাথপুর-শ্রীরামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে অষ্টম শ্রেণি সম্পন্ন করার পর আলমডাঙ্গা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।
আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর বিচার বিভাগে কাজ করার স্বপ্ন নিয়ে বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন আনারুল। দীর্ঘ প্রস্তুতি, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের পর ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে তার নাম আসে। সহকারী জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার খবরটি তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হয়ে এসেছে। নিজের সাফল্যের জন্য মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানিয়েছেন আনারুল। একই সঙ্গে তার দীর্ঘ শিক্ষাজীবনে সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা দেয়া মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বিশেষভাবে সহোদর আমজাদ হোসেনের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। আনারুলের শিক্ষাজীবনে প্রভাষক খাইরুল ইসলামের অবদানের কথাও তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তার ভাষ্য, প্রাথমিক পর্যায় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা পর্যন্ত খাইরুল ইসলাম তাকে একাডেমিক ও মানসিকভাবে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। তার ব্যক্তিগত লাইব্রেরির বই পড়ার সুযোগও আনারুলের জ্ঞানচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় হলের রুমমেট ও ক্যাম্পাসের বন্ধু মাহমুদ হাসান, সোহেল, সাজু, মিলন, গোলাম মোস্তফা ও আরাফাতের সহযোগিতা ও দিক-নির্দেশনার কথাও স্মরণ করেছেন আনারুল। পাশাপাশি শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।
আনারুলের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, শৈশবে বাবাকে হারিয়ে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে বড় হয়েছেন তিনি। জীবিকার প্রয়োজনে কৃষিকাজ করেও পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। তার এই সাফল্য শুধু পরিবারের জন্য নয়, এলাকার তরুণদের জন্যও অনুপ্রেরণার। আনারুলের স্বজন, শিক্ষক, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীরা তার সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বিচার বিভাগের দায়িত্ব পালনের জন্য তার প্রতি শুভকামনা জানিয়েছেন তারা। ধানের মাঠে কাজ করা থেকে আইন বিষয়ে পড়াশোনা, এরপর বিচার বিভাগের দায়িত্ব পালনের পথে এগিয়ে যাওয়াÑআনারুল ইসলামের এই পথচলায় রয়েছে অভাবের সঙ্গে লড়াই, শিক্ষার প্রতি নিষ্ঠা এবং দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের গল্প।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ