আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰একক প্রস্তুতি জামায়াতের , এনসিপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার শঙ্কা📰দর্শনা-লোকনাথপুর সড়কে রাতের আঁধারে গাছ কেটে ফেলে রাখায় রহস্য ঘনীভূত📰আলমডাঙ্গার প্রাপগপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দু’পক্ষের আহত ৭ 📰চুয়াডাঙ্গায় নজরুল উৎসবের পঞ্চম দিনে মঞ্চস্থ রিক্তের বেদন📰চুয়াডাঙ্গার ভান্ডারদহে গৃহবধূকে আহত করে সোনার চেইন ছিনতাই📰আলমডাঙ্গা পরোয়ানাভুক্ত নারীসহ ৪ জন গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার📰দর্শনায় কাঠ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখমের অভিযোগ📰চুয়াডাঙ্গায় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত📰দামুড়হুদায় বুলডেজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো দুই অবৈধ ইটভাটা📰মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ১৪ বছরেও ফেরেননি গাংনীর নিখোঁজ চারজন
হোম পেজদেশের খবরখুলনা বিভাগবন্দুকযুদ্ধে দর্শনার বিল্লাল নিহতের ঘটনা দীর্ঘদিন পর ফের তদন্তে

বন্দুকযুদ্ধে দর্শনার বিল্লাল নিহতের ঘটনা দীর্ঘদিন পর ফের তদন্তে




দর্শনা অফিস:

দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনায় ২০১৩ সালে পুলিশের কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বালু ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন নিহত হওয়ার ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘ বছর পর বিল্লালকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছেÑএ অভিযোগে তার বোনের করা মামলায় সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে নারাজি আবেদনের পর পুনঃতদন্তের পথ খুলেছে। আদালত মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দিয়েছেন। এরই মধ্যে পিবিআই মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে।
বিল্লাল হোসেনের বোন শালপোনা পারভীন ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর চুয়াডাঙ্গার আদালতে সিআর-৬৩৬/২০২৪ নম্বরে মামলাটি করেন। এতে তৎকালীন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগর টগর, তৎকালীন পুলিশ সুপার আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরীসহ পুলিশ কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগের নেতাসহ নয়জনের বিরুদ্ধে বিল্লালকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪১, ৩৬৪, ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ করা হয়। আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করে সিআইডি। প্রায় দেড় বছর তদন্তের পর ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে সিআইডি প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলায় নাম থাকা নয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত সত্যতা পাওয়া যায়নি। তাদের মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। এর বিরুদ্ধে গত ১৯ মে নারাজি আবেদন করেন বাদী শালপোনা পারভীন। তার অভিযোগ, তদন্তে সাক্ষীদের যথাযথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি এবং আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তদন্ত প্রভাবিত হয়েছে। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে মামলাটি পুনরায় তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বিল্লাল দীর্ঘদিন ধরে বালুর ব্যবসা করতেন। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তার কাছে চাঁদা দাবি করতেন বলে অভিযোগ করেন তার বোন। বিষয়টি তিনি তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তাদের জানালেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। শালপোনার অভিযোগ, পরে বিল্লালকে অপহরণ করে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ২০১৩ সালের ১১ আগস্ট দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে পুলিশের কয়েকজন সদস্য ও অন্য ব্যক্তিরা দক্ষিণ চাঁদপুরে এক সাক্ষীর বাড়ি থেকে বিল্লালকে তুলে নিয়ে যান। পরে দক্ষিণ চাঁদপুর-উজলপুর সড়কের হররচারা মাঠের পাশে রাত প্রায় ৩টা ৫৫ মিনিটে গুলির শব্দ শোনা যায়। সেখানে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বিল্লালের মরদেহ পাওয়া যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীর দাবি, বিল্লালের হাতে তখন হাতকড়া ছিল। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির পাশাপাশি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্নও ছিল। তাকে হত্যার পর ঘটনাটিকে ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে দেখাতে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি বয়ান তৈরি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আলী আজগর টগর, দর্শনা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা জয়নাল আবেদীন নফর, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলী মুনসুর বাবু, আলীহীম, তৎকালীন দর্শনা তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মিজানুর রহমান, তৎকালীন পুলিশ সুপার আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরী, দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি আহসান হাবিব, কনস্টেবল সাজেদুল ও দেবাশীষের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ-ছয়জনের কথা বলা হয়েছে। তবে ২০১৩ সালের পুলিশি নথি ও পরবর্তী নির্বাহী তদন্তে ঘটনার ভিন্ন বিবরণ পাওয়া যায়। সিআইডির অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিল্লালের মৃত্যুর ঘটনায় ২০১৩ সালের ১২ আগস্ট চুয়াডাঙ্গা থানায় তিনটি পৃথক মামলা হয়েছিল। এর একটি অস্ত্র আইনে, একটি দণ্ডবিধির ৩৯৯/৪০২/৩৩২/৩৫৩/৩০৭/৩৪ ধারায় এবং অপরটি বিস্ফোরক আইনে। পুলিশের ওই মামলাগুলোর বর্ণনা অনুযায়ী, বিল্লালসহ একটি সশস্ত্র দল পুলিশের ওপর গুলি ও বিস্ফোরক নিক্ষেপ করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে বিল্লাল নিহত হন। তদন্তকারীরা মামলার এজাহারে বর্ণিত ঘটনার সত্যতা পেয়েছিলেন বলে সিআইডির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিল্লাল মারা যাওয়ায় এবং অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় মামলাগুলোতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়। একই ঘটনায় তৎকালীন সময়ে নির্বাহী তদন্তও হয়েছিল। সিআইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই তদন্তে এলাকায় বড় ধরনের অপরাধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ সদস্যদের গুলিবর্ষণকে যথার্থ ও সঠিক বলা হয়েছিল।
বিল্লালের মৃত্যুর ঘটনায় সিআইডির অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে আগের একাধিক মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার তথ্যও উঠে এসেছে। হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্র, বিস্ফোরক, হামলাসহ বিভিন্ন ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা থাকার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে তিনি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেনÑএমন তথ্যও অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে বলে সিআইডি জানিয়েছে। তবে সিআইডির প্রতিবেদনের একটি অংশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সেখানে আগের মামলা ও জব্দ তালিকা পর্যালোচনার ভিত্তিতে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া গুলি ও গুলির খোসা পুলিশের সরকারি বরাদ্দের গুলি ছিল না। এ থেকে প্রতিবেদনে ধারণা করা হয়, বিল্লাল তার নিজের দলের সদস্যদের এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত হয়ে থাকতে পারেন।
কিন্তু ওই প্রতিবেদনে ঘটনাস্থলের গুলি বা গুলির খোসার ব্যালিস্টিক কিংবা ফরেনসিক পরীক্ষার ফল উল্লেখ নেই। কোন অস্ত্র থেকে গুলি ছোড়া হয়েছিল, উদ্ধার হওয়া গুলির সঙ্গে কোনো অস্ত্রের মিল পাওয়া গেছে কি না কিংবা পুলিশের অস্ত্র থেকে গুলি ছোড়া হয়েছিল কি নাÑএসব বিষয়ে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফলও প্রতিবেদনে দৃশ্যমান নয়। ফলে পুনঃতদন্তে এসব বিষয় যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাক্ষ্যগ্রহণের তথ্যেও অসঙ্গতি রয়েছে। প্রতিবেদনের এক জায়গায় বাদীর তালিকাভুক্ত সাতজন সাক্ষীর মধ্যে চারজন এবং অনুসন্ধানের সময় আরও চারজনসহ মোট আটজনের জবানবন্দি নেয়ার কথা বলা হয়েছে। একই অনুচ্ছেদে আবার ‘০৪ (পাঁচ) জন’ লেখা হয়েছে। বাদীর তালিকাভুক্ত তিনজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং বাদী তাঁদের হাজির করতে পারেননি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে আট নম্বর আসামিকে ‘এএসআই দেবাশীষ’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও সিআইডির অনুসন্ধানে তৎকালীন দর্শনা তদন্ত কেন্দ্রে ‘এসআই দেবাশীষ’ নামে কোনো কর্মকর্তা কর্মরত ছিলেন না বলে জানানো হয়েছে। তবে ‘কনস্টেবল/৩৬৭ দেবাশীষ’ নামে একজন সেখানে কর্মরত ছিলেন বলে পুলিশি তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ পরিচয়গত পার্থক্যও পুনঃতদন্তে যাচাইয়ের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘটনার সময় নিয়েও এজাহারে অসঙ্গতি রয়েছে। এজাহারের এক জায়গায় ১১ আগস্ট দিবাগত রাত আড়াইটায় বিল্লালকে তুলে নেয়ার কথা বলা হলেও পরবর্তী অংশে ১২ আগস্ট রাত আড়াইটা থেকে তিনটার সময়ের উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে ঘটনাস্থলে গুলির শব্দ শোনার সময় ভোর ৩টা ৫৫ মিনিট বলা হয়েছে। ফলে ঘটনার তারিখ ও সময়ের সুনির্দিষ্ট ধারাবাহিকতা নির্ধারণও পুনঃতদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বিল্লালের মৃত্যুর পর তার বাবা আতিয়ার রহমানও আদালতে মামলা করেছিলেন। সিআইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ২০ আগস্ট তৎকালীন দর্শনা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই মিজানুর রহমানকে আসামি করে অজ্ঞাতনামা সাত-আটজনের বিরুদ্ধে পি-১৯৫/১৩ নম্বরে মামলা করা হয়। এতে ৪৪৮, ৩৬৪, ৩০২ ও ২০১ ধারায় একই ঘটনার অভিযোগ আনা হয়েছিল। পরে ওই মামলা প্রত্যাহার করা হয় বলে সিআইডির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আদালতের রেকর্ডরুমের প্রত্যয়ন অনুযায়ী, মামলাটির নথি ২০২১ সালের ৫ অক্টোবর বিধি অনুযায়ী বিনষ্ট করা হয়। ফলে একই মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে ২০১৩ সালে নিহতের বাবার করা মামলা, একই ঘটনায় পুলিশের করা তিনটি মামলা এবং ১১ বছর পর ২০২৪ সালে নিহতের বোনের করা নতুন হত্যা মামলাÑসব মিলিয়ে ঘটনাটি আবারও তদন্তের আওতায় এসেছে।
নারাজি আবেদনে শালপোনা পারভীন অভিযোগ করেন, সিআইডির তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলায় উল্লেখ করা সাক্ষীদের যথাযথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেননি। বরং তাদের প্রকৃত বক্তব্যের পরিবর্তে মনগড়া জবানবন্দি তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের প্রভাবে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি মর্মে প্রতিবেদন দিয়েছেন বলেও তার অভিযোগ। শালপোনা বলেন, তার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর তার বাবা আদালতে মামলা করেছিলেন। তার দাবি, মামলা করার পরদিন রাতে তৎকালীন দর্শনা তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মিজানুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তার ছোট ভাই সাইফুলকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে তদন্ত কেন্দ্রে আটকে রাখেন। মামলা প্রত্যাহার না করলে সাইফুলকেও ‘ক্রসফায়ারে’ দেয়া হবে বলে হুমকি দেয়া হয়েছিলÑএমন অভিযোগ করেন তিনি। এ কারণে তার বাবা মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করতে বাধ্য হয়েছিলেন বলে দাবি তার। শালপোনার আরও অভিযোগ, আসামিপক্ষের কয়েকজনের পরিবারের সদস্য তার সঙ্গে একাধিকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করেছেন। মোবাইল ফোনে তাদের সঙ্গে এ নিয়ে কথোপকথন হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে তিনি কোনো আপস করেননি জানিয়ে বলেন, ‘যা হওয়ার আদালতেই হবে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, পিবিআই নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করবে এবং আদালতের মাধ্যমে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন।
চুয়াডাঙ্গা সিআইডির তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বলেন, বিল্লালের বোন শালপোনা আদালতে মামলা করার পর সেটির তদন্তের দায়িত্ব সিআইডি পায়। তদন্তে বিল্লালের হাতে হাতকড়া থাকার তথ্য এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি ও আঘাতের চিহ্নের কথা সুরতহাল প্রতিবেদনে পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। রফিকুল ইসলাম বলেন, বিল্লালের মৃত্যুর পর তাঁর বাবা পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগে একটি মামলা করেছিলেন। পাশাপাশি ক্রসফায়ারের ঘটনায় পুলিশও মামলা করেছিল। পরে বিল্লালের বাবা তার করা মামলা প্রত্যাহার করে নেন। একই ঘটনায় বিচারিক তদন্তও হয়েছিল এবং সেখানে পুলিশ বা অন্য আসামিদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ‘ঘটনাটি ১৩-১৪ বছরের পুরোনো। অন্য মামলার অনেক নথি এখন পাওয়া যাচ্ছে না। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া ফরেনসিক আলামতও পাওয়া যায়নি। তদন্তে আসামিদের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় আমরা চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে পাঠিয়েছি।’
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার গাজী রবিউল ইসলাম বলেন, আনুমানিক দেড় মাস আগে চুয়াডাঙ্গা আদালতের শালপোনা পারভীনের করা পুরোনো মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে এসেছে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান। দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করছেন এবং মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানও চলছে। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় পর একই মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু হওয়ায় এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছেÑ২০১৩ সালের ওই রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, বিল্লাল কীভাবে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছিলেন এবং ঘটনাটিকে ঘিরে পরবর্তী সময়ে করা বিভিন্ন মামলার তথ্য ও নথির মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তার ব্যাখ্যা কী। পিবিআইয়ের পুনঃতদন্তে এসব প্রশ্নের উত্তর কতটা স্পষ্ট হয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ