জীবননগর অফিস:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে পৃথক অভিযানে ৭৫ বোতল ভারতীয় সিরাপসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সঙ্গে সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ২০ বোতল ভারতীয় সিরাপ, ২৯ বোতল ভারতীয় মদ এবং ১ হাজার ২৯ পিস ওষুধ জব্দ করা হয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)’র আওতাধীন বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত থেকে গতকাল শুক্রবার সকাল পর্যন্ত এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
৫৮ বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার সকাল ৬টা ২০ মিনিটের দিকে জীবননগর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়। সীমান্ত পিলার ৬৭-এমপি থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জীবননগর পেট্রলপাম্প এলাকায় হাবিলদার হাসমত আলীর নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। এ সময় ৭৫ বোতল ভারতীয় সিরাপ, একটি মুঠোফোন ও একটি মোটরসাইকেলসহ ফিরোজ হোসেন (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফিরোজ হোসেন জীবননগর উপজেলার শাকারিয়া গ্রামের বরকতুল্লাহর ছেলে। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে জব্দ করা মাদক, মুঠোফোন ও মোটরসাইকেলসহ জীবননগর থানায় সোপর্দ করার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৭টা ২০ মিনিটের দিকে উথলী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অভিযান চালায় বিজিবি। সীমান্ত পিলার ৭১-এমপি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মনোহরপুর গ্রামের একটি পাটখেত থেকে হাবিলদার মনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ২০ বোতল ভারতীয় সিরাপ জব্দ করা হয়। তবে এ সময় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ১২টা ৩৫ মিনিটের দিকে নিমতলা বিওপির আওতাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৯ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করা হয়েছে। সীমান্ত পিলার ৭৩/৩-এস থেকে প্রায় ১৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে হালদারপাড়া মাঠে শমসের মোল্লার কলাবাগানের মধ্যে এসব মদ পাওয়া যায়। হাবিলদার শহর আলীর নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানেও কোনো আসামিকে আটক করা যায়নি। অন্যদিকে, চোরাচালানবিরোধী পৃথক অভিযানে ১ হাজার ২৯ পিস ওষুধ উদ্ধার করেছে ৫৮ বিজিবি। শুক্রবার ভোর ৫টা ২৬ মিনিটে মাটিলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত পিলার ৫২/১২-আর থেকে প্রায় ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শ্মশানঘাট এলাকায় অভিযানটি চালানো হয়। সুবেদার মো. মোস্তাক আহমেদের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে একটি স্থান থেকে এসব ওষুধ উদ্ধার করা হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। ৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান এসব অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এসব মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে।


