আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়তি নজর, প্রশাসনের পাশাপাশি সতর্ক থাকবে বিএনপিসহ মিত্ররাও📰চুয়াডাঙ্গায় মাদকসহ আটক ৩ জনকে জেল-জরিমানা📰উন্নয়নকাজে রাজনৈতিক বৈষম্য থাকা উচিত নয়: এমপি রুহুল📰দর্শনায় যুবদল ও ছাত্রদল কর্মীদের পাল্টাপাল্টি হামলায় দুজন আহত📰চুয়াডাঙ্গা আইনজীবী সমিতির সভাপতি পদে শাহজাহান মুকুল সম্পাদক পদে আব্দুল মজিদ📰সবাই মিলে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখলে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে: এমপি রাসেল📰জীবননগরে ৫ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশ📰চুয়াডাঙ্গায় সমাজসেবা কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতিবন্ধীর ভাতার টাকা লুট📰আলমডাঙ্গায় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অভিযান গ্রেফতার-৫📰শিশুদের নিরাপত্তায় সবাইকে দায়িত্বশীল ও সাবধান থাকার আহ্বান
হোম পেজদেশের খবরখুলনা বিভাগমেহেরপুরের গাংনীতে দর্জি প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ

মেহেরপুরের গাংনীতে দর্জি প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ




নিজস্ব প্রতিবেদক:

মেহেরপুরের গাংনীতে অসচ্ছল নারীদের স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত সরকারি দর্জি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে চরম অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসিমা খাতুনের বিরুদ্ধে ৩০ জন দুস্থ প্রশিক্ষণার্থীর মাসিক ভাতা ও প্রশিক্ষণের মালামাল ক্রয়ের বরাদ্দকৃত টাকা পকেটস্থ করার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
উপজেলা মহিলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিল থেকে জুন (২০২৬) মেয়াদে তিন মাসব্যাপী এই দর্জি প্রশিক্ষণে গাংনী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ৩০ জন অসচ্ছল নারী অংশ নেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা করে ভাতা দেয়ার কথা। কিন্তু ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এপ্রিল মাসে পূর্ণ ভাতা পেলেও মে মাসে দেয়া হয় মাত্র ১ হাজার ৭শ টাকা। পরবর্তীতে জুন মাসের ভাতার টাকা উত্তোলন করা হলেও রেভিনিউ স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের কোনো টাকাই দেয়া হয়নি।
ভোমরদহ গ্রামের প্রশিক্ষণার্থী ইতি খাতুন বলেন, জুন মাসের ভাতা দেয়ার কথা বলে আমাদের দিয়ে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়া হয়েছে, কিন্তু সরকারি তহবিল থেকে টাকা উঠিয়েও আমাদের এক টাকাও দেয়া হয়নি। একই অভিযোগ করেছেন শিশিরপাড়া গ্রামের চামেলী ও জেসমিন খাতুন এবং গাড়াডোব গ্রামের ছকিনা ও জেসমিন খাতুন। ভুক্তভোগীদের আশঙ্কা, ভাতার টাকা কম দেয়ার পাশাপাশি জাল স্বাক্ষর তৈরি করে অতিরিক্ত টাকাও আত্মসাৎ করা হয়ে থাকতে পারে।
শুধু ভাতা আত্মসাৎই নয়, প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি মালামালেও চলে হরিলুট। নীতিমালার তোয়াক্কা না করে প্রশিক্ষণার্থীদের সিট কাপড়, কাঁচি, সুতা, মেজারমেন্ট টেপ ও স্কেলসহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিজ খরচে বাড়ি থেকে কিনে আনতে বাধ্য করা হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত কর্মকর্তা মেহেরপুর জেলা কার্যালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকায় সেখানেও একই ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের সন্দেহ।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত গাংনী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসিমা খাতুন সাংবাদিকদের ওপর ক্ষিপ্ত হন। জুন মাসের সরকারি টাকা উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, ২ আগস্ট নির্দেশনা এসেছে টাকাগুলো না দেয়ার জন্য। তবে সরকারি অর্থ তুলে এক মাসেরও বেশি সময় নিজের কাছে রাখার কারণ ও বাজেটের বিস্তারিত তথ্য দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান এবং সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে গাংনী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাবিদ হোসেন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি সদ্য অবগত হয়েছেন এবং ঘটনাটি দ্রুত খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
মেহেরপুর জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, সরকারি প্রকল্পে কোনো প্রকার দুর্নীতি বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। প্রাথমিক তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বিধি অনুযায়ী কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
দুস্থ নারীদের সহায়তায় বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত এবং আত্মসাৎকৃত ভাতা অবিলম্বে ফেরতের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নারীরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ