আলমডাঙ্গা অফিস:
আলমডাঙ্গায় এক কৃষকের বাড়িতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে ডাকাতির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাড়ির লোকজনের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে তাদের একজনকে ধাওয়া করে ধরে মারধর করেন স্থানীয় লোকজন। আহত অবস্থায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার খাসকররা ইউনিয়নের তিওরবিলা গ্রামের মাঝের পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। আটক ওই যুবকের নাম সজল (২৭)। তিনি ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার ফতেপুর গ্রামের ফুয়াজ আলীর ছেলে। পেশায় দিনমজুর। ভুক্তভোগী কৃষক মতিয়ার রহমান কালিনগর গ্রামের নবিছদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে কালিনগর গ্রামের গ্রাম্য চিকিৎসক জহুরুল ইসলাম ও তার ভাই স্কুলশিক্ষক ইয়ারুলের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা চুক্তিতে একটি জমি কেনেন মতিয়ার রহমান। এ জন্য দুই লাখ টাকা দিয়ে বায়নাপত্রও করেন তিনি। তবে জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তাকে ঘোরানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে কয়েক মাস আগে আদালতে মামলা করেন মতিয়ার। তার অভিযোগ, মামলা করার পর জহুরুল ইসলাম ও তার ভাই তাকে মারধর করেন এবং বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দেন।
মতিয়ারের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালায়। তারা বাড়ির ফটক ভাঙার চেষ্টা করে এবং ফটক খুলতে বলে। ফটক না খুললে তাকে উদ্দেশ করে চার লাখ টাকা দাবি করে হত্যার হুমকি দেয় দুর্বৃত্তরা। এ সময় মতিয়ার ও তার পরিবারের সদস্যরা চিৎকার করে সাহায্য চাইলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। তখন হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন প্রায় দুই কিলোমিটার ধাওয়া করে সজলকে ধরে মারধর করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
খাসকররা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য তৌফিক আহম্মেদ শিমুল জানান, গত রাতে ডাকাত সদস্যরা ডাকাতির উদ্দেশ্যে মতিয়ারের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। তবে স্থানীয়দের ধাওয়ায় ডাকাত সদস্যরা পালিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, জহুরুল ও ইয়ারুলের সাথে জমিসংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। এলাকাবাসীর সন্দেহ জমি সংক্রান্ত ঘটনার জেরে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত গ্রাম্য চিকিৎসক জহুরুল ইসলাম ও তার ভাই স্কুলশিক্ষক ইয়ারুলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি সম্ভব হয়নি। ফোনে বার বার কল দেবার পরেও সেটি বন্ধ দেখাচ্ছিলো।
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ রাকিবুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফাঁড়িপুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে ডাকাতি হয়নি। কিন্তু কারা এর সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে এখনো ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা লিখিত অভিযোগ দেয়নি।


