নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় অভিযান চালিয়ে গাঁজাসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। তাদের কাছ থেকে মোট ১০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়। গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অভিযানটি পরিচালনা করেন। অভিযানে গ্রেপ্তার দুজন হলেন চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার গাইদঘাট নতুনপাড়া এলাকার রায়হান আলীর ছেলে লিমন আলী এবং একই এলাকার আলী আকবর পচার ছেলে বাদল আলী (২৯)। অভিযানকালে লিমন আলীর কাছ থেকে ৫ গ্রাম গাঁজা এবং বাদল আলীর কাছ থেকে আরও ৫ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার করা মাদকসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়।
চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার দুজনকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আশিস মোমতাজ শুনানি শেষে দুজনকেই এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদকদ্রব্যের কেনাবেচা, বহন ও সেবনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জামায়াত ও আ.লীগের ‘পুরাতন প্রেম’ জাগ্রত হয়েছে : রাশেদ খাঁন
ঝিনাইদহ অফিস: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সম্পর্ককে ইঙ্গিত করে কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি বলেছেন, জামায়াত ও আওয়ামী লীগের পুরাতন প্রেম ছিল এবং সেই প্রেম এখন আবারও জাগ্রত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ঝিনাইদহের নতুন হাটখোলা জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সকালে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের ঝিনাইদহ সফরকে কেন্দ্র করে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে জনগণের ধারণা স্পষ্ট। নির্বাচনে যদি কোনো ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়ে থাকে, তবে তা জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির পক্ষেই হয়েছে। রাশেদ খাঁন বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী জামানায় আওয়ামী লীগের দ্বারা সবচেয়ে বেশি নিপীড়িত হয়েছে বিএনপি। গুম-খুনের শিকার হয়েছে বিএনপি। তাহলে কীভাবে বিএনপি আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনতে চায়? বরং আমরা সেই অতীত প্রেমের ইতিহাস, চিঠি লেখার ইতিহাসÑআমরা ভুলে যাইনি। তিনি বলেন, জামায়াত এবং আওয়ামী লীগের পুরাতন প্রেম আবার জাগ্রত হয়েছে বলে মানুষ মনে করছে। আওয়ামী লীগের ব্যাপারে তাদের কোনো মন্তব্য নেই, বক্তব্য নেই। আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার সাহেব নীরব ভূমিকায় থাকেন। তারা বলেন, এক ফ্যাসিবাদকে হটিয়েছি, আরেক ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা কায়েম হচ্ছে। হচ্ছে মানে কী? এই সরকার গণতান্ত্রিক চর্চায় বিশ্বাস করে। জামায়াতে ইসলাম ও এনসিপি সভা-সমাবেশ করছে, তারা অযৌক্তিক লংমার্চ করছেÑকোথাও কোনো বাধা দেয়া হচ্ছে না। রাশেদ খাঁন বলেন, আর গোয়েন্দা সংস্থার ব্যাপারে যে কথা তিনি বলেছেন, দেখেনÑ১৬ বছরে যে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা কায়েম হয়েছিল, গোয়েন্দা সংস্থা বলেন বা অন্যান্য সংস্থা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলেন বা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরÑসেখানে আওয়ামীকরণ করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসে সেই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা ভেঙে ফেলে কীভাবে আসলে বাংলাদেশপন্থি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা যায়, সেই লক্ষ্যে তারা কাজ করেনি। বরং সেই সময় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টালবাহানা করে সরকারের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনকে ব্যাহত করার জন্য এমন কোনো অপচেষ্টা নেই, যা তারা করেনি। রাশেদ খাঁন বলেন, আমাদেরই প্রশ্ন, যে দল অতীতে সর্বোচ্চ ১৮টি আসন পেয়েছিল, সেই দল এবার ৭৭টি আসন পেল। এই প্রসঙ্গে মানুষের মনের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছেÑআদৌ কি নাহিদ ইসলাম নির্বাচনে পাস করেছিল? আদৌ কি জামায়াতের আমির নির্বাচনে পাস করেছিল? সেটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে আমরা সংবাদ দেখেছি। আসলে মানুষের এক ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। মানুষ বিশ্বাস করে না, জামায়াতের আমির এবং নাহিদ ইসলাম জনগণের ভোটে পাস করে জাতীয় সংসদে গিয়েছে।


