আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰একক প্রস্তুতি জামায়াতের , এনসিপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার শঙ্কা📰দর্শনা-লোকনাথপুর সড়কে রাতের আঁধারে গাছ কেটে ফেলে রাখায় রহস্য ঘনীভূত📰আলমডাঙ্গার প্রাপগপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দু’পক্ষের আহত ৭ 📰চুয়াডাঙ্গায় নজরুল উৎসবের পঞ্চম দিনে মঞ্চস্থ রিক্তের বেদন📰চুয়াডাঙ্গার ভান্ডারদহে গৃহবধূকে আহত করে সোনার চেইন ছিনতাই📰আলমডাঙ্গা পরোয়ানাভুক্ত নারীসহ ৪ জন গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার📰দর্শনায় কাঠ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখমের অভিযোগ📰চুয়াডাঙ্গায় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত📰দামুড়হুদায় বুলডেজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো দুই অবৈধ ইটভাটা📰মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ১৪ বছরেও ফেরেননি গাংনীর নিখোঁজ চারজন
হোম পেজদেশের খবরখুলনা বিভাগচুয়াডাঙ্গায় ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

চুয়াডাঙ্গায় ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত




নিজস্ব প্রতিবেদক:

ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগের বিস্তার ঠেকাতে চুয়াডাঙ্গায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। জেলার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, হাসপাতাল, খাবারের হোটেল, নির্মাণাধীন ভবন ও পরিত্যক্ত স্থানে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোথাও যাতে বৃষ্টির পানি জমে মশার প্রজননস্থল তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলা পর্যায়ে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা দেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।
সভায় শুরুতেই চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে চলমান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ও পৌর প্রশাসক শারমিন আক্তার। এরপর জেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতি, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় জেলার সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কলেজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে পরিবার ও নিজ নিজ এলাকার মানুষের মধ্যেও সচেতনতা ছড়িয়ে দেয়ারও পরামর্শ দেয়া হয়। একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন হাট-বাজার নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়। শহরে প্রতি রবিবার সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়। বিশেষ করে বৃষ্টির পর কোথাও পানি জমে আছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত অপসারণের ওপর জোর দেয়া হয়। এছাড়া সভায় চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিয়মিত শিডিউল তৈরির পরামর্শ ও শুধু অভিযান বা বিশেষ কর্মসূচির সময় নয়, সারা বছর নিয়মিতভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের কথা বলা হয়েছে। প্রতি বৃহস্পতিবার বেসরকারি ক্লিনিক ও চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে বিশেষভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়।
সভায় জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, চুয়াডাঙ্গায় ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। তিনি বলেন, কোথাও যাতে পানি জমে মশার প্রজননস্থল তৈরি না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে আরও সক্রিয় হয়ে নিয়মিত মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। জনসচেতনতা বাড়াতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার ওপরও গুরুত্ব দেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিভাগ, পৌরসভা, স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। লুৎফুন নাহার বলেন, কারও বাড়ির আশপাশে পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে। জ্বরসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি নিয়মিত মনিটরিং জোরদারের নির্দেশ দেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু অভিযান চলাকালে নয়, নিয়মিতভাবে বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মশা নিধন কার্যক্রম চালালেই হবে না, মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি মানুষের আচরণ ও সচেতনতার পরিবর্তনও জরুরি। বিশেষ করে বৃষ্টির পর বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রেন, নির্মাণাধীন ভবন কিংবা যেকোনো স্থানে পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে। তারা বলেন, একটি ছোট পাত্রে জমে থাকা পানিও এডিস মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তাই ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনÑসব পর্যায়ে নিয়মিত নজরদারি ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি. এম. তারিক-উজ-জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান, দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহিন্দ্র কুমার মণ্ডল, সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা তাসলিমা নাসরিন, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নার্গিস সুলতানা, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, জেলা মহিলা দলের সভাপতি রউফুন্নাহার, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি ও সাংবাদিক কামরুজ্জামান সেলিমসহ সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ