নিজস্ব প্রতিবেদক:
ডেঙ্গু প্রতিরোধে চুয়াডাঙ্গায় এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। দেশব্যাপী চলমান সচেতনতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জেলা শহরের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল, নতুন বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও লার্ভিসাইড স্প্রে করা হয়। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয় ডেঙ্গু প্রতিরোধবিষয়ক সচেতনতামূলক লিফলেট।
গতকাল শনিবার সকাল থেকে পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে এ বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হয়। অভিযানে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র নেতৃত্ব দেন। তিনি সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্পটে সরেজমিনে উপস্থিত থেকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন। পরে পথচারী ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন। এ সময় চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি ও পৌরসভার টিকাদান সুপারভাইজার আলী হোসেন উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার প্রশাসক শারমিন আক্তার নতুন বাজারসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মশা নিধন ও লার্ভিসাইড স্প্রে কার্যক্রম তদারকি করেন। তিনি নিজেও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন। পাশাপাশি পৌরবাসীকে নিজেদের বাড়িঘর ও আশপাশের আঙিনা পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান। ডেঙ্গু প্রতিরোধে এককালীন অভিযানেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে পৌর এলাকার পরিচ্ছন্নতা ও মশা নিধন কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ জন্য রুট ও স্পটভিত্তিক বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। পৌরসভার নির্ধারিত প্রতিটি রুটে একজন কর্মকর্তা বা পরিদর্শককে তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে চারজন করে কর্মী কাজ করবেন। এসব দল নির্ধারিত এলাকায় পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কাজ করবে।
পৌরসভার তালিকা অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেনÑ কোর্ট মোড়-বড় বাজার: সহকারী কর আদায়কারী (এসেসর) জাহাঙ্গীর আলম ও সড়কবাতি পরিদর্শক আনিছুর রহমান। বড়বাজার-শেকড়াতলা মোড়: পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শরিফুল ইসলাম ও লাইসেন্স পরিদর্শক আব্দুল মুহাইমিন পলাশ। একাডেমি মোড়-পৌর কলেজ: সহকারী কর আদায়কারী আসাবুল হক আশা, ভ্যান সুপারভাইজার মহিবুল ও অফিস সহায়ক মো. জিহাদ। শ্মশান মোড়-হাজরাহাটি হাজী মোড়-ব্রিজ মোড়: সানোয়ার হোসেন ও অফিস সহায়ক মিলনউজ্জামান। পুরাতন স্টেডিয়াম-ফার্মপাড়া-কদমতলা মোড়: লেবার সুপারভাইজার ওসমান গনি, সহকারী কর আদায়কারী আশরাফুল আলম ও বিল ক্লার্ক রাকিব হোসেন। বেলগাছি হাজী মোড়-শাপলা চত্বর: নকশাকার আল-আমীন কবির ও রওশন আলী জোয়ার্দ্দার।
পৌর কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগের মাধ্যমে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার, হাসপাতাল ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং মশা নিধনে নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনের অভিযান নয়, নাগরিকদের সচেতনতাকেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন কিংবা আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নাগরিকদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


