নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় তরুণ প্রজন্মকে সাঁতারে উদ্বুদ্ধ করা এবং নতুন প্রতিভাবান সাঁতারু তৈরির লক্ষ্যে ‘সাঁতার টুর্নামেন্ট ২০২৬’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় শহরের পুরাতন স্টেডিয়াম হিসেবে পরিচিত মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব মাঠসংলগ্ন সুইমিংপুলে এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করে। জেলার আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অর্ধশতাধিক সাঁতারু এতে অংশ নেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিএম তারিকুজ্জামান বলেন, সাঁতার কেবল একটি জলক্রীড়া নয়, এটি সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের জন্য অত্যন্ত কার্যকর একটি জীবনদক্ষতা। নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের, বিশেষ করে শিশুদের সাঁতার শেখা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বিএম তারিকুজ্জামান বলেন, সাঁতার শুধু শরীরচর্চা বা বিনোদনের একটি মাধ্যম নয়, পানিতে দুর্ঘটনার সময় জীবন রক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলও এটি। নদীমাতৃক বাংলাদেশে প্রতিটি শিশুর সাঁতার শেখা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের আয়োজন গ্রামীণ ও প্রান্তিক পর্যায়ের সুপ্ত প্রতিভাদের খুঁজে বের করে জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তরুণ প্রজন্মকে মাঠমুখী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, মোবাইল ফোনের আসক্তি, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও মাদকের ভয়াল থাবা থেকে তরুণদের দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। জেলা ক্রীড়া সংস্থা তরুণদের মেধা ও শারীরিক বিকাশে এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত চালিয়ে যাবে। আজকের টুর্নামেন্ট থেকে উঠে আসা সাঁতারুরা ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চুয়াডাঙ্গার নাম উজ্জ্বল করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর ও দামুড়হুদা সার্কেল) শেখ নুরুল্লাহ বলেন, সাঁতারের ছন্দময় গতি ও পানির সংস্পর্শ শরীরে ‘এন্ডোরফিন’ নিঃসরণে সহায়তা করে, যা মানসিক চাপ ও বিষণ্নতা কমাতে ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে সাঁতার এমন একটি ব্যায়াম, যাতে শরীরের প্রায় সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ একসঙ্গে সক্রিয় থাকে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া সংস্থার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব বিপুল হাসান হ্যাজির সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা সেলিম রেজা, চুয়াডাঙ্গা কামিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও এএফসি ফুটবল ক্লাবের সভাপতি জুয়েল মাহমুদ। টুর্নামেন্টের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করেন চুয়াডাঙ্গা কামিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) রকিবুল ইসলাম (ইসলাম রকিব), চুয়াডাঙ্গা একাডেমির সহকারী শিক্ষক ফিরোজ উদ্দিন, আলাল-হেলাল ইসলামী একাডেমির সহকারী শিক্ষক আব্দুল হাই, আলোকদিয়া রোমেলা খাতুন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হাফিজুর রহমান, তালতলা-হাজরাহাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিলকিচ নাহার এবং চুয়াডাঙ্গা আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আইরিন ইসলাম।


