নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গার ৩২তম পুলিশ সুপার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মেহেদী শাহরিয়ার। গতকাল সোমবার দুপুরে তিনি চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যোগ দিয়ে নতুন দায়িত্ব নেন। এ সময় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। নবাগত পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পৌঁছালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মিনহাজ-উল-ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপারসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে মেহেদী শাহরিয়ার উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
জানা গেছে, মেহেদী শাহরিয়ার যশোর জেলার একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিং বিষয়ে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ২৮তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে ২০১০ সালে সহকারী পুলিশ সুপার পদে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন তিনি। দীর্ঘ কর্মজীবনে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ও পদে দায়িত্ব পালন করেছেন মেহেদী শাহরিয়ার। দায়িত্ব পালন করেছেন গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইউনিটে। সর্বশেষ তিনি বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চে (এসবি) কর্মরত ছিলেন। কর্মজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পেলেন তিনি। মেহেদী শাহরিয়ার সদ্য বিদায়ী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
নবাগত পুলিশ সুপারের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মিনহাজ-উল-ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) শেখ মোহাম্মদ নুরুল্লাহ, সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিস) মো. সোয়েব আহমেদ ও সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিস) হিমন বিশ্বাস। এছাড়া জেলার সব থানার অফিসার ইনচার্জ, সিসিআইসি, আরআই, টিআইসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর নবাগত পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি চুয়াডাঙ্গার সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চান। মেহেদী শাহরিয়ার বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে জেলা পুলিশের কার্যক্রমকে আরও জনবান্ধব, পেশাদার ও গতিশীল করার প্রত্যয় নিয়ে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন।


