নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গার গাইদঘাটে মাদক ব্যবসায়ীদের প্রতিহত করতে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন স্থানীয় দুই ব্যক্তি। তাদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত শনিবার রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলার গাইদঘাট দক্ষিণপাড়া মাঠের মধ্যে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। মাদক কারবারিদের প্রতিহত করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ হামলার শিকার হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। আহত ব্যক্তিরা হলেন গাইদঘাট দক্ষিণপাড়ার আব্দুর রহমানের ছেলে শাহীন এবং একই এলাকার মজিনুর রহমান কটার ছেলে সিদ্দিকুর রহমান সামাদ। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনার পর খবর পেয়ে গতকাল রবিবার দুপুরে আহত ব্যক্তিদের দেখতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে যান চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল। এ সময় তিনি তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসার বিষয়ে কথা বলেন। একই সঙ্গে সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাইদঘাট দক্ষিণপাড়া এলাকায় মাদক কারবারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ রয়েছে এলাকাবাসীর। এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার রাতে স্থানীয় ৭-৮ জন ব্যক্তি এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারিদের ধরতে দক্ষিণপাড়া মাঠে যান। এ সময় তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধ হয়ে ধারালো অস্ত্র, লাঠি ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে শাহীন ও সিদ্দিকুর রহমান সামাদ গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
গাইদঘাট দক্ষিণপাড়া পুরাতন জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা ইব্রাহিম খলিল বলেন, এলাকার সাধারণ মানুষ মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার। তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখার চেষ্টা করছেন। শনিবার রাতে স্থানীয় ৭-৮ জন ব্যক্তি মাদক কারবারিদের ধরতে দক্ষিণপাড়া মাঠে গেলে মাদক কারবারি ও তাদের নিকটাত্মীয়রা সংঘবদ্ধ হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করেন। এতে শাহীন ও সিদ্দিকুর রহমান সামাদ গুরুতর আহত হন। মাওলানা ইব্রাহিম খলিলের অভিযোগ, গাইদঘাট দক্ষিণপাড়ার হাবিব, জালাল, জাহিদুল, আশিক, সান, ফরজ আলী, আসিফ, আলিফ ও রাসেল ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলায় অংশ নেন। তাদের হামলায় দুই ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় বাসিন্দারা মাদক কারবারিদের প্রতিহত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই উদ্যোগ নিতে গিয়ে তাদেরই হামলার শিকার হতে হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলার ভিত্তিতে তদন্ত করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


