নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে ১১৫ গ্রাম গাঁজাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং মাদক সেবনের অভিযোগে আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে। পরে পাঁচজনকেই ভ্রাম্যমাণ আদালত ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেয়া হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা সদর ও দর্শনা থানার বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়।
ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে, দর্শনা থানার কুড়ালগাছি এলাকা থেকে হাসান মিয়া (৩০), মিজানুর রহমান (৪৭) ও বাবু মিয়াকে (৩৮) গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে পৃথকভাবে ১০০, ১০ ও ৫ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। অর্থাৎ তিনজনের কাছ থেকে মোট ১১৫ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হাসান মিয়া কুড়ালগাছি এলাকার জমির হোসেনের ছেলে। মিজানুর রহমান একই এলাকার মৃত আজমত মন্ডলের ছেলে এবং বাবু মিয়া আনোয়ার হোসেনের ছেলে। অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা এলাকার আলুকদিয়া মনিরপাড়া থেকে মিলন (৩৯) এবং হাসপাতালপাড়া থেকে নয়ন আলীকে মাদক সেবনের অভিযোগে আটক করা হয়। মিলন আলুকদিয়া মনিরপাড়ার মৃত বোরহানের ছেলে। নয়ন আলী হাসপাতালপাড়ার মুনসুর আলীর ছেলে।
ডিএনসি সূত্র জানায়, গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় প্রথম তিনজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হলে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত প্রথম আসামি হাসান মিয়াকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড দেন। দ্বিতীয় আসামি মিজানুর রহমানকে ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং তৃতীয় আসামি বাবু মিয়াকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। এদিকে মাদক সেবনের অভিযোগে আটক মিলন ও নয়ন আলীর বিরুদ্ধেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. আশিস মোমতাজ তাদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, মাদকের বিস্তার রোধে জেলা পুলিশের পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকদ্রব্য বহন, বিক্রি ও সেবনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
ডিএনসি সূত্রে আরও জানা যায়, একই দিনে সদর ও দর্শনা থানার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানের অংশ হিসেবে এসব গ্রেপ্তার ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়।


