আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰‘নজরুলের সাম্য ও মানবতার দর্শন ছড়িয়ে দিতে হবে নতুন প্রজন্মের মধ্যে’📰দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচ রুটে ট্রেন চালুর দাবি লোকমোর্চার📰অর্থের বিনিময়ে শিক্ষার্থী ভর্তি ও নিয়োগপত্র জালিয়াতি, অভিযুক্ত শাহজামাল গ্রেপ্তার📰দামুড়হুদায় ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত যুবকের গলা-ঘাড়ে কোপ, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পুলিশ📰আলমডাঙ্গায় কারেন্ট ও চায়না দুয়ারি জাল জব্দ ও পুড়িয়ে ধ্বংস📰চুয়াডাঙ্গায় নজরুল উৎসবে আবৃত্তি-নাটকে মুগ্ধ দর্শক📰জীবননগরে মনোহরপুরে ভৈরব নদের পাড়ে ২ হাজার গাছ কর্তন📰বিএনপি নেতা হত্যা মামলায় আলমডাঙ্গার সাবেক ওসি বিপ্লব গ্রেপ্তার📰দামুড়হুদার নাটুদহে লংমার্চ উপলক্ষে জামায়াতের আলোচনা📰মাথাভাঙার ভাঙনে আতঙ্কে নগরবোয়ালিয়ার ১৫ পরিবার
হোম পেজকৃষি ও পরিবেশজীবননগরের করিমপুরে রাতের আঁধারে বস্তায় ভরে সার সরবরাহের অভিযোগ

জীবননগরের করিমপুরে রাতের আঁধারে বস্তায় ভরে সার সরবরাহের অভিযোগ




জীবননগর অফিস:

জীবননগর উপজেলার হাসাদহ ইউনিয়নের করিমপুর গ্রামে অনুমোদনহীনভাবে জৈব সার কারখানা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। ‘তাকওয়া এগ্রো এন্টারপ্রাইজ’ নামের ওই কারখানাটি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় গড়ে ওঠায় পরিবেশদূষণ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও কৃষি বিভাগের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই সেখানে সার উৎপাদন করা হচ্ছে। রাতের আঁধারে বস্তায় ভরে ওই সার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। কারখানাটির কার্যক্রম তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা যায়, করিমপুর গ্রামের প্রধান সড়কের পাশেই গড়ে তোলা হয়েছে কারখানাটি। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের কারখানা পরিচালনার বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি করেছে। তাদের আশঙ্কা, কারখানার কার্যক্রমের কারণে পরিবেশের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়তে পারে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানাটি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন নেয়া হয়নি। উৎপাদিত সার রাতের আঁধারে বস্তায় ভরে বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। ফলে সারটির গুণগত মান, উৎপাদনপ্রক্রিয়া এবং বাজারজাতকরণের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। তবে কারখানাটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কী-না, উৎপাদিত সারের মান কেমন এবং এর কার্যক্রমে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হচ্ছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
করিমপুর গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সরকারি অনুমোদন ছাড়া কীভাবে একটি জৈব সার কারখানা গড়ে উঠল, তা আমাদের বোধগম্য নয়। কারখানার মালিকের বাড়ি ঢাকার মুন্সীগঞ্জে। তিনি এখানে এসে পরিবেশ নষ্ট করে ব্যবসা করছেন। এতে আমাদের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এলাকায় বিভিন্ন জটিল রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়তে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় কারখানাটি পরিচালিত হওয়ায় এর কার্যক্রম সম্পর্কে যথাযথ তদারকি প্রয়োজন। তাদের দাবি, কারখানাটির অনুমোদন, সার উৎপাদনের প্রক্রিয়া, পরিবেশের ওপর প্রভাব এবং উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান যাচাই করে দেখা হোক। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কারখানাটির মালিক নাসির। তার দাবি, তিনি যে ধরনের সার উৎপাদন করেন, সেটি তৈরির জন্য কোনো অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, আমি যে সার তৈরি করি, সেটির কোনো অনুমোদন লাগে না। তাছাড়া আমি স্থানীয় বাজারে সার বিক্রি করি না। এখান থেকে বস্তায় ভরে সরাসরি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করি, তারাই এসে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, করিমপুর গ্রামে অবৈধভাবে জৈব সার কারখানা গড়ে তোলার বিষয়টি আমরা জেনেছি। সেখানে কয়েকবার অভিযান চালানো হলেও ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে অননুমোদিতভাবে কারখানা পরিচালনা করা হলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে কারখানাটির কার্যক্রম নিয়ে ভিন্ন অবস্থান উঠে এসেছে। একদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকার অভিযোগ তুলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, অন্যদিকে মালিক দাবি করছেন, তার উৎপাদিত সার তৈরিতে অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। কৃষি বিভাগও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকার কথা জানিয়েছে। এ অবস্থায় কারখানাটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না, উৎপাদিত সার কোন প্রক্রিয়ায় তৈরি হচ্ছে এবং তা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কি না, তা সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে কারখানাটির কার্যক্রমের বৈধতা নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ