উথলী প্রতিনিধি:
জীবননগরে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর মামুন হোসেন (২৫) নামের এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ একটি আমগাছ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার উথলী ডিগ্রি কলেজের পাশের পুকুরপাড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর এভাবে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে শোক ও নানা প্রশ্ন। নিহত মামুন হোসেন জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়নের একতারপুর গ্রামের আনসার আলীর ছেলে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, মামুন মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি তিনি। এরপর থেকেই পরিবারের সদস্যরা তার সন্ধানে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে সন্ধান চালিয়েও তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে উথলী ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন পুকুরপাড়ের একটি আমগাছ থেকে মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি সামনে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে পাশের একটি মরিচখেতে কাজ করতে গিয়েছিলেন এক কৃষক। এ সময় পুকুরপাড়ের দিক থেকে তিনি তীব্র দুর্গন্ধ পান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি আশপাশের লোকজনকে জানান। পরে কয়েকজন এলাকাবাসী সেখানে গিয়ে একটি আমগাছে মরদেহ ঝুলতে দেখতে পান। মরদেহ দেখতে পাওয়ার পর স্থানীয়রা বিষয়টি দ্রুত মামুনের পরিবারের সদস্যদের জানান। খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি মামুন হোসেনের বলে শনাক্ত করেন। নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর মরদেহটি অর্ধগলিত অবস্থায় উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তিনি কীভাবে ওই আমগাছে উঠলেন কিংবা সেখানে কী পরিস্থিতিতে তার মৃত্যু হলোÑএসব বিষয় নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে। তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ সোলায়মান শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওসি বলেন, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


