দামুড়হুদা অফিস:
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জয়রামপুর রেলস্টেশন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কারের পাশাপাশি এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল হিসেবে বিবেচিত ঝোপঝাড়, ড্রেন ও জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়। গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের জয়রামপুর রেলস্টেশন এলাকায় এ অভিযান শুরু হয়। দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিনের নেতৃত্বে পরিচালিত এ কার্যক্রমে তিনি নিজেও পরিচ্ছন্নতার কাজে অংশ নেন। দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেয়া হয়।
অভিযান চলাকালে রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি ঝোপঝাড় ও ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা অপসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়। এডিস মশার বংশবিস্তারের আশঙ্কা রয়েছেÑএমন পরিত্যক্ত পাত্র, টায়ার ও প্লাস্টিকের কৌটাও পরিষ্কারের আওতায় আনা হয়। এসব স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকলে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পানি জমতে না দেয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়। পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও যাত্রীদের উদ্দেশে সচেতনতামূলক বক্তব্য দেন ইউএনও লাভলী ইয়াসমিন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, সাধারণ মানুষের সচেতনতাও অত্যন্ত জরুরি। নিজ নিজ বাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা গেলে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা সম্ভব। তিনি জয়রামপুর রেলস্টেশন ও বাজার এলাকার ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কোথাও পানি জমতে না দেয়া, পরিত্যক্ত পাত্র ও প্লাস্টিকের কৌটা পরিষ্কার রাখা এবং আশপাশে ময়লা-আবর্জনা জমতে না দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, জনবহুল রেলস্টেশন ও বাজার এলাকায় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এসব স্থানে প্রতিদিন বহু মানুষের চলাচল থাকায় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও যাত্রীদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। অভিযানে দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, হাউলী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান, ইউপি সদস্য রওশনারা রাণী, ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন। এ ছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মী এবং সাধারণ মানুষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, জয়রামপুর রেলস্টেশন এলাকায় এ ধরনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হলে মশার উপদ্রব কমানোর পাশাপাশি যাত্রী ও সাধারণ মানুষের চলাচলের পরিবেশও আরও সুন্দর হবে। তবে পরিচ্ছন্নতা ধরে রাখতে এককালীন অভিযানের পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি ও জনসম্পৃক্ততা প্রয়োজন।


