তিতুদহ প্রতিনিধি:
মাঠজুড়ে তখন উৎসবের আমেজ। এক পাশে বাবাদের একাদশ, অন্য পাশে ছেলেদের দল। বাঁশি বাজতেই শুরু হলো হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতার ঝলক দেখিয়ে ছেলেদের ৩-১ গোলে হারিয়ে জয় তুলে নিলেন বাবারা। গতকাল শুক্রবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা উজলপুর বিলপাড়ায় অনুষ্ঠিত এই ব্যতিক্রমী প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ঘিরে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। অনলাইন জুয়া, গেম ও মাদকের আসক্তি থেকে তরুণ সমাজকে দূরে রাখতে উজলপুর বিলপাড়া যুবসমাজের উদ্যোগে এ প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়। ম্যাচে মুখোমুখি হয় ‘বাবা একাদশ’ ও ‘ছেলে একাদশ’। ভিন্নধর্মী এই আয়োজন দেখতে মাঠে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সী দর্শক।
খেলার শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়েরা আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমিয়ে তোলেন ম্যাচ। ছেলেরা একটি গোল করে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করলেও অভিজ্ঞ বাবারা দ্রুত খেলায় ফিরে আসেন। এরপর একে একে আরও তিনটি গোল করে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন তারা। নির্ধারিত সময় শেষে ছেলেদের এক গোলের বিপরীতে বাবারা করেন তিন গোল। ফলে ৩-১ ব্যবধানে জয় পায় বাবা একাদশ। খেলা দেখতে আসা দর্শকদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় ছিল একই পরিবারের দুই প্রজন্মের সদস্যদের মাঠের লড়াই। বাবাদের অভিজ্ঞতা আর ছেলেদের তারুণ্যের গতির এই লড়াই মুহূর্তেই পরিণত হয় আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের উৎসবে। গোলের সঙ্গে সঙ্গে মাঠের চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে দর্শকদের করতালি ও উল্লাস।
আয়োজকেরা বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণদের একটি অংশ অনলাইন জুয়া ও বিভিন্ন অনলাইন গেমে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এর পাশাপাশি মাদকের ভয়াবহতাও তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তরুণদের সুস্থ বিনোদন ও শরীরচর্চার সুযোগ তৈরি করা জরুরি। খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের মাঠমুখী করার কোনো বিকল্প নেই। তারা আরও বলেন, শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ আয়োজন নয়, এর মাধ্যমে তরুণদের একটি ইতিবাচক বার্তা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছেÑমাদক, অনলাইন জুয়া কিংবা আসক্তির পরিবর্তে মাঠে ফিরতে হবে, খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। উজলপুর বিলপাড়া যুবসমাজের পক্ষ থেকে নিয়মিত এমন আয়োজন করা গেলে তরুণদের মধ্যে সামাজিক সম্পৃক্ততা আরও বাড়বে বলে তারা মনে করেন।
ব্যতিক্রমী এই ফুটবল ম্যাচটি পরিচালনা করেন নুরজামাল, মাসুম ও দ্বিন মোহাম্মদ। খেলা ঘিরে উজলপুর বিলপাড়া এলাকায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়। বাবা-ছেলের লড়াই দেখতে মাঠে উপচে পড়া ভিড় ছিল দর্শকদের। শেষ বাঁশির পর জয়ী বাবাদের নিয়ে যেমন উচ্ছ্বাস দেখা যায়, তেমনি ছেলেদের পরাজয়ও রূপ নেয় হাসি-আনন্দের খুনসুটিতে।


