আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়তি নজর, প্রশাসনের পাশাপাশি সতর্ক থাকবে বিএনপিসহ মিত্ররাও📰চুয়াডাঙ্গায় মাদকসহ আটক ৩ জনকে জেল-জরিমানা📰উন্নয়নকাজে রাজনৈতিক বৈষম্য থাকা উচিত নয়: এমপি রুহুল📰দর্শনায় যুবদল ও ছাত্রদল কর্মীদের পাল্টাপাল্টি হামলায় দুজন আহত📰চুয়াডাঙ্গা আইনজীবী সমিতির সভাপতি পদে শাহজাহান মুকুল সম্পাদক পদে আব্দুল মজিদ📰সবাই মিলে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখলে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে: এমপি রাসেল📰জীবননগরে ৫ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশ📰চুয়াডাঙ্গায় সমাজসেবা কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতিবন্ধীর ভাতার টাকা লুট📰আলমডাঙ্গায় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অভিযান গ্রেফতার-৫📰শিশুদের নিরাপত্তায় সবাইকে দায়িত্বশীল ও সাবধান থাকার আহ্বান
হোম পেজআইন আদালতদামুড়হুদায় বন্যপাখি হত্যায় বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে বন বিভাগের মামলা দায়ের

দামুড়হুদায় বন্যপাখি হত্যায় বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে বন বিভাগের মামলা দায়ের




জীবননগর অফিস:

দামুড়হুদায় বিষ প্রয়োগ করে ২৯টি বন্য পাখি হত্যার অভিযোগে বাবা ও ছেলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে বন বিভাগ। নিহত পাখিগুলোর আর্থিক মূল্যের তুলনায় পরিবেশের ক্ষতির পরিমাণ কয়েক গুণ বেশি বলে বন বিভাগের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, মারা যাওয়া পাখিগুলোর আনুমানিক আর্থিক মূল্য ৫ হাজার ২১০ টাকা হলেও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকা।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ আগস্ট রাত সাড়ে আটটার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের উত্তরপাড়া এলাকার একটি ফসলি জমিতে পাখি শিকারের উদ্দেশ্যে বিষাক্ত বীজ ছড়িয়ে দেয়া হয়। বিষমিশ্রিত ওই বীজ খেয়ে সেখানে ২৯টি বন্য পাখি মারা যায়। এর মধ্যে ২৪টি তিলা ঘুঘু, ৩টি চড়ুই এবং ২টি কবুতর ছিল। বিষ প্রয়োগ করে পাখি হত্যার বিষয়টি নজরে আসে কুষ্টিয়া সামাজিক বন বিভাগের অধীনস্থ ফরেস্টার ও দামুড়হুদা উপজেলা বন কর্মকর্তা সুরেশ চন্দ্র মিস্ত্রী ও তার দলের। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃত পাখিগুলো দেখতে পান এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান। এরপর গত ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় দামুড়হুদার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিন আলমের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে অভিযান চালানো হয়। এ সময় পাখি নিধনের সঙ্গে জড়িত প্রধান অভিযুক্ত আতিয়ার রহমান (৫৫) পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থলে তার ছেলে রাজনকে পাওয়া যায়।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে রাজন পাখি নিধনে সহায়তার কথা স্বীকার করেন এবং এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৫০০ টাকা জরিমানা করেন। অভিযানের পর বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ ও জব্দ তালিকা প্রস্তুত করেন। স্থানীয় ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তাদের স্বাক্ষরও নেয়া হয়। ঘটনার প্রায় চার দিন পর বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর ৩৮(১)/৪২ ধারায় চুয়াডাঙ্গার আদালতে বাবা ও ছেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে বন বিভাগ।

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, বিষ প্রয়োগে মারা যাওয়া ২৯টি পাখির আনুমানিক আর্থিক মূল্য ৫ হাজার ২১০ টাকা। তবে এসব পাখি হত্যার ফলে পরিবেশের যে ক্ষতি হয়েছে, তার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বন্য পাখি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ায় না, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ, বীজ ছড়িয়ে দেওয়া এবং খাদ্যশৃঙ্খল স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে পাখির ভূমিকা রয়েছে। ফলে বিষ প্রয়োগ করে একসঙ্গে এতগুলো পাখি হত্যার ঘটনা স্থানীয় পরিবেশের জন্যও উদ্বেগের বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দামুড়হুদা উপজেলা বন কর্মকর্তা ও মামলার বাদী সুরেশ চন্দ্র মিস্ত্রী বলেন, বন্যপ্রাণী হত্যা কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না। বিষ প্রয়োগ, অবৈধ শিকারসহ বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধে বন বিভাগের অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ফসলের ক্ষতি বা অন্য কোনো কারণে পাখি তাড়ানোর প্রয়োজন হলে বিষ প্রয়োগের মতো ভয়াবহ পদ্ধতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি পাখিই মারা যায় না, বিষক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্যশৃঙ্খলের অন্যান্য প্রাণীও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

দামুড়হুদার একটি ফসলি জমিতে পাখি শিকারের জন্য ছড়িয়ে দেয়া বিষাক্ত বীজ তাই শেষ পর্যন্ত ২৯টি পাখির প্রাণ কেড়ে নেয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের পরিবেশগত ক্ষতির হিসাব সামনে এনেছে। বন বিভাগের মামলার মধ্য দিয়ে ঘটনাটি এখন আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় গড়িয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ