আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰একক প্রস্তুতি জামায়াতের , এনসিপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার শঙ্কা📰দর্শনা-লোকনাথপুর সড়কে রাতের আঁধারে গাছ কেটে ফেলে রাখায় রহস্য ঘনীভূত📰আলমডাঙ্গার প্রাপগপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দু’পক্ষের আহত ৭ 📰চুয়াডাঙ্গায় নজরুল উৎসবের পঞ্চম দিনে মঞ্চস্থ রিক্তের বেদন📰চুয়াডাঙ্গার ভান্ডারদহে গৃহবধূকে আহত করে সোনার চেইন ছিনতাই📰আলমডাঙ্গা পরোয়ানাভুক্ত নারীসহ ৪ জন গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার📰দর্শনায় কাঠ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখমের অভিযোগ📰চুয়াডাঙ্গায় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত📰দামুড়হুদায় বুলডেজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো দুই অবৈধ ইটভাটা📰মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ১৪ বছরেও ফেরেননি গাংনীর নিখোঁজ চারজন
হোম পেজদেশের খবরখুলনা বিভাগদামুড়হুদায় হিন্দু পরিবারের ছেলে ও মুসলিম পরিবারের মেয়ের বিয়ে নিয়ে উত্তেজনা

দামুড়হুদায় হিন্দু পরিবারের ছেলে ও মুসলিম পরিবারের মেয়ের বিয়ে নিয়ে উত্তেজনা




কার্পাসডাঙ্গা প্রতিনিধি:

দামুড়হুদা উপজেলার ছোট দুধপাতিলা গ্রামে ধর্ম পরিবর্তন করে বিয়ে করাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, গ্রামের এক হিন্দু পরিবারের ছেলে ধর্ম পরিবর্তন করে মুসলিম পরিবারের এক মেয়েকে বিয়ে করার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে একাধিক দফা সালিস বৈঠকও হয়।
সর্বশেষ গত রবিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সালিস বৈঠক বসে। সেখানে ওই দম্পতিকে নিজ নিজ ধর্মে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে হিন্দু পরিবারের ওই যুবকের পরিবারকে এক মাসের মধ্যে গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে সালিসে আইনগতভাবে তালাক বা বিবাহ বিচ্ছেদের কোনো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে কী-না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছোট দুধপাতিলা গ্রামের শ্রী শুদো হালদারের ছেলে শ্রী উজ্জল হালদারের সঙ্গে একই গ্রামের নস্কর আলীর মেয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই নারী দুই সন্তানের জননী বলে স্থানীয়রা জানান। প্রায় এক বছর আগে উজ্জল হালদার হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ওই নারীকে বিয়ে করেন বলে এলাকাবাসীর ভাষ্য।
স্থানীয়দের দাবি, ধর্ম পরিবর্তন করে বিয়ের পরও উজ্জল তার আগের হিন্দু স্ত্রী ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ও সংসার চালিয়ে আসছিলেন। অন্যদিকে মুসলিম নারীকে বিয়ের বিষয়টিও চলছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রামে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। চায়ের দোকান থেকে পাড়া-মহল্লাÑবিভিন্ন জায়গায় এ নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে পক্ষ-বিপক্ষও তৈরি হয় এবং দফায় দফায় সালিস বৈঠক বসে।
এদিকে সালিসকে কেন্দ্র করে গ্রামের সাইফুল ও মহাবুল নামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে শ্রী শুদো হালদারের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের একাংশের দাবি, নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে ওই টাকা নেয়া হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেও এলাকায় চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পরে গত রবিবার রাতে হাউলি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শহিদুল ইসলাম, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম এবং হাউলি ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ওবায়দুর হকের নেতৃত্বে সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
সালিসে ছেলে-মেয়ের সম্মতিতে হওয়া বিয়েকে অবমাননা করে তাদের নিজ নিজ ধর্মে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দেয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানান। একই সঙ্গে শ্রী উজ্জল হালদারের পরিবারকে এক মাসের মধ্যে গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে খোলা তালাক বা অন্য কোনো আইনগত বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা যায়নি। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখনো চাপা উত্তেজনা রয়েছে। বিশেষ করে হিন্দু পরিবারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেয়ার অভিযোগ এবং উজ্জল হালদারের পরিবারকে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে।
দামুড়হুদা মডেল মসজিদের ইমাম মাওলানা মুফতি মামুনুর রশিদ বলেন, শরিয়াহ অনুযায়ী কেউ ধর্ম পরিবর্তন করলে আগের ধর্মীয় বিবাহের বিষয়ে বিচ্ছেদের বিষয়টি আসে। তবে আইনগতভাবে মুসলিম দম্পতির ক্ষেত্রে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
হিন্দু ধর্মের পুরোহিত বাবু লাল বলেন, কোনো ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর আবার হিন্দু ধর্মে ফিরতে চাইলে হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে পঞ্চগব্য সেবন ও অঙ্গ প্রায়শ্চিত্তের মাধ্যমে ধর্মে ফেরার বিধান রয়েছে।
হাউলি ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ওবায়দুর হক বলেন, এই ঘটনায় গ্রামের মানুষের মধ্যে একটা চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সেটার শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা হয়েছে।
স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও ধর্মীয় পরিচয়ের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে কেন্দ্র করে যাতে নতুন করে উত্তেজনা বা বিরোধ তৈরি না হয়, সে জন্য বিষয়টি আইনগত ও শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে টাকা নেয়ার অভিযোগ এবং পরিবারকে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশের বিষয়টিও যথাযথভাবে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ