আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰একক প্রস্তুতি জামায়াতের , এনসিপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার শঙ্কা📰দর্শনা-লোকনাথপুর সড়কে রাতের আঁধারে গাছ কেটে ফেলে রাখায় রহস্য ঘনীভূত📰আলমডাঙ্গার প্রাপগপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দু’পক্ষের আহত ৭ 📰চুয়াডাঙ্গায় নজরুল উৎসবের পঞ্চম দিনে মঞ্চস্থ রিক্তের বেদন📰চুয়াডাঙ্গার ভান্ডারদহে গৃহবধূকে আহত করে সোনার চেইন ছিনতাই📰আলমডাঙ্গা পরোয়ানাভুক্ত নারীসহ ৪ জন গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার📰দর্শনায় কাঠ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখমের অভিযোগ📰চুয়াডাঙ্গায় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত📰দামুড়হুদায় বুলডেজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো দুই অবৈধ ইটভাটা📰মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ১৪ বছরেও ফেরেননি গাংনীর নিখোঁজ চারজন
হোম পেজজাতীয়স্থানীয় সরকার নির্বাচনের অধীর অপেক্ষা, ৪২ প্রতীক বরাদ্দ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের অধীর অপেক্ষা, ৪২ প্রতীক বরাদ্দ




ঢাকা অফিস:

দেশে প্রায় এক দশক পর আবারও নির্দলীয় প্রতীকে হতে যাচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের বিধান চালুর পর দীর্ঘ সময় দলীয় পরিচয় ও প্রতীকের আওতায় ভোট হলেও এবার সেই ব্যবস্থা থেকে সরে এসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশোধিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা, ২০২৬ অনুযায়ী আসন্ন ইউপি নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতীক থাকবে না। চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে মোট ৪২টি প্রতীক নির্ধারণ করেছে ইসি।
নতুন ব্যবস্থায় চেয়ারম্যান পদে ২০টি প্রতীক রাখা হয়েছে। এগুলো হলো-কম্পিউটার, কলার ছড়ি, ঘণ্টা, ঘোড়া, চিংড়ি, জগ, টেবিল, টেবিল ঘড়ি, টেলিফোন, দালান, দোতলা বাস, পাগড়ি, বেবি ট্যাক্সি, ময়ূর, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল, মোড়া, রেল ইঞ্জিন, সোফা ও হাঁস। সাধারণ সদস্য পদে প্রতীক নির্ধারণ করা হয়েছে উট, কাপ-পিরিচ, ঘুড়ি, জাহাজ, টর্চলাইট, টিউবওয়েল, ট্রাক্টর, তালা, ফুটবল, বৈদ্যুতিক পাখা, বৈদ্যুতিক বাল্ব ও মোরগ। আর সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে থাকছে আলমারি, কলস, ড্রেসিং টেবিল, পালকি, ফলের ঝুড়ি, মাইক, সেলাই মেশিন, সূর্যমুখী ফুল, হরিণ ও হেলিকপ্টার। এর আগে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেন।
জানা যায়, স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালের ১৯ থেকে ৩০ ডিসেম্বর দেশে প্রথম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৭৭, ১৯৮৩, ১৯৮৮, ১৯৯২, ১৯৯৭ ও ২০০৩ সালে ইউপি নির্বাচন হয়। দীর্ঘ এই সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জাতীয় রাজনৈতিক দলের প্রতীক ব্যবহারের বিধান ছিল না। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় বড় সংস্কার আসে জিয়াউর রহমানের সময়ে। ১৯৭৬ সালের ‘লোকাল গভার্নমেন্ট ওয়ার্ডিনেন্স’ এর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার কাঠামো পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় সরকার কাঠামো পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়। উপজেলা পরিষদ ব্যবস্থা বিলুপ্ত করার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার কাঠামো পর্যালোচনায় কমিশন গঠন করা হয়। বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে ১৯৯২ সালের ২২ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের যুগ শুরু হয় ২০১৫ সালে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আইন সংশোধনের পর ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রথম দলীয় প্রতীকে ভোট হয়। এতে স্থানীয় নির্বাচন জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়ে পড়ে। এ সময় নির্বাচন পরিচালনা, প্রশাসনের ভূমিকা ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন নির্বাচনকে ঘিরে অভিযোগ ও বিতর্কও তৈরি হয়। দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর পক্ষ থেকে নির্বাচন পরিচালনা, প্রশাসনের ভূমিকা এবং ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব নিয়ে নানা অভিযোগ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পক্ষ থেকে পক্ষপাত, প্রভাব বিস্তার এবং নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান ও গবেষণা সেলের পরিচালক প্রফেসর ড. ইমরানুল হক বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন মূলত জনগণের সবচেয়ে কাছের নির্বাচনী কাঠামো। দলীয় প্রতীক না থাকলে প্রার্থীর ব্যক্তিগত পরিচিতি, স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা ও এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা ভোটারদের কাছে তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্ব পেতে পারে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর স্থানীয় সাংগঠনিক শক্তি ও সমর্থন থাকায় দলীয় প্রতীক না থাকলেও জাতীয় রাজনীতির প্রভাব পুরোপুরি দূর হবেÑএমনটা মনে করার কারণ নেই। তবে এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ। কারণ দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে মানুষের মাঝে যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকার কথা, তা থাকে না। দলীয় প্রতীক নিয়ে আলাদা হওয়ার সুযোগ থাকে। মানুষ যাকে কাছে পাবে, সাথে যার সম্পর্ক ভালো, তিনি গ্রহণযোগ্য তাকে বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে না। অনেক সময় দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলে ব্যক্তির চেয়ে দল বড় হয়ে যায়। ফলে দলের প্রতীক নিয়ে এমন কেউ নির্বাচিত হতে পারে যিনি দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন করলে অতটা গ্রহণযোগ্যতা পেত না। স্থানীয় সরকার নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে ব্যতিক্রম। এখানে প্রার্থীর সাথে সাধারণ মানুষের সম্পর্কটা অনেক বেশি গুরুত্ব বহন করে। এজন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে হওয়ায় সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত বলে আমি মনে করি। সরকারের এমন জনবান্ধব উদ্যোগ এবং মানুষের জন্য কল্যাণকর সিদ্ধান্তকে অবশ্যই সাধুবাদ জানানো উচিত।
তবে নির্দলীয় প্রতীকের এই নির্বাচনে শুধু প্রতীকেই পরিবর্তন আসেনি, প্রার্থীদের জামানত ও নির্বাচনী ব্যয়ের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ২৫ হাজার টাকা এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশের কম পেলে তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্বোচ্চ নির্বাচনী ব্যয় ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর জন্য ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন বিধিমালায় নির্বাচনী অনিয়মের ক্ষেত্রেও কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। কোনো ভোটকেন্দ্রের ফলাফল বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, কারসাজি বা অন্য কোনো অনিয়মের কারণে গুরুতরভাবে প্রভাবিত হলে কমিশন সেই কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করতে পারবে। প্রয়োজন হলে ভোট বাতিল করে পুনরায় ভোট গ্রহণের ব্যবস্থাও করতে পারবে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থ’ানীয় সরকার নির্বাচন ধাপে ধাপে আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বার্ষিক ও পাবলিক পরীক্ষা বিবেচনায় নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভোট না করে জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে প্রথম ধাপের নির্বাচন হলে তার ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করতে হবে। তবে ইউপি নির্বাচন নিয়ে এখনো প্রাথমিক আলোচনা চলছে। কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। আমরা ইউপি নির্বাচনে শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ধরে নিয়ে কাজ শুরু করবো। নির্দলীয় প্রতীকে নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের চাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলেই কেবল দলীয় করণের সুযোগ থাকে। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা এবং সুষ্ঠ্য নির্বাচন করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো শক্তিশালী করা প্রয়োজন হলেও বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। জাতীয় নির্বাচনের মতো ইউপি নির্বাচনও সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের চেষ্টা থাকবে। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন এলাকাভিত্তিক ও বিভিন্ন ধাপে আয়োজন করা হবে, যাতে অনিয়ম, সংঘাত ও সহিংসতা যতটা সম্ভব কমানো যায়।
এদিকে, দীর্ঘ সময় দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন হওয়ার পর নির্দলীয় প্রতীকে ফেরার ফলে এবারের ভোটে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত পরিচিতি, স্থানীয় পর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সাংগঠনিক সক্ষমতা সামনে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে দলীয় প্রতীক না থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলোর স্থানীয় পর্যায়ের সমর্থন ও সাংগঠনিক তৎপরতা নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে নতুন ব্যবস্থায় মূল নজর থাকবে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, প্রশাসনের ভূমিকা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার পরিবেশের ওপর।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ