ক্রীড়া প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় ফুটবলকে ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে মাঠ। তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা, মাদক ও নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা এবং স্থানীয় ফুটবলের হারানো প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় আয়োজন করা হচ্ছে ফুটবল টুর্নামেন্ট। এরই ধারাবাহিকতায় চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বেলগাছি ফুটবল মাঠে নবদিগন্ত সংঘের ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন হয়েছে। একই সঙ্গে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের হাটকালুগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে মরহুম আফসার মেম্বার স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল। গতকাল শুক্রবার বিকেলে বেলগাছি ফুটবল মাঠে নবদিগন্ত সংঘের ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ।
উদ্বোধনী খেলায় মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মালসাদাহ ফুটবল একাদশকে ২-০ গোলে হারিয়ে জয় পেয়েছে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার নাপিতখালি ফুটবল একাদশ। বিকেল চারটার দিকে শুরু হওয়া উদ্বোধনী খেলাকে ঘিরে মাঠে দর্শকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দুই দলের খেলোয়াড়দের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত নাপিতখালি ফুটবল একাদশ দুই গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। নবদিগন্ত সংঘের সভাপতি আলী হোসেনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম পিটু, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, চুয়াডাঙ্গা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব বিপুল হাসান হাজী এবং জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শরিফুল ইসলাম রাজা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আবু জাফর বিশ্বাস, ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাধারণ সম্পাদক আহসানুর হক মিলন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক হামিদ উদ্দিন বাবু, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক জুয়েল মাহমুদ, সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মতিউর রহমান মিশর, সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব সবুজ এবং কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ফয়সাল আহমেদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের হাটকালুগঞ্জে অনুষ্ঠিত মরহুম আফসার মেম্বার স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’র ফাইনালে স্বাগতিক হাটকালুগঞ্জ ফুটবল একাডেমি ১-০ গোলে দামুড়হুদা উপজেলার ফকিরপাড়া ফুটবল একাডেমিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ফাইনাল ম্যাচ ঘিরেও ছিল উৎসবের আমেজ। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলায় দুই দলই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে খেললেও শেষ পর্যন্ত একমাত্র গোলটি করে শিরোপা নিশ্চিত করে হাটকালুগঞ্জ ফুটবল একাডেমি। খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ। ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, বিএনপির সিনিয়র সদস্য আরশেদ আলী কালু, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশিদ ঝন্টু, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মানি খন্দকার এবং জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহজাহান খান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, পৌর যুবদলের নেতা লালন সর্দার, সাইদ আলী, শাহরুখ আহমেদ ও একা। ফাইনালে বিজয়ী হাটকালুগঞ্জ ফুটবল একাডেমিকে প্রথম পুরস্কার হিসেবে একটি বড় খাসি ছাগল দেয়া হয়। রানার্সআপ ফকিরপাড়া ফুটবল একাডেমি পায় ৬ হাজার টাকা।
পুরস্কার বিতরণী ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয় এটি তরুণ প্রজন্মকে শৃঙ্খলাবোধ, সহনশীলতা ও নেতৃত্বের শিক্ষা দেয়। একটি সমাজে খেলার মাঠ যত বেশি প্রাণবন্ত থাকবে, তরুণেরা তত বেশি সুস্থ ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। তিনি বলেন, ফুটবল আমাদের গ্রামবাংলার মানুষের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাগুলোর একটি। একসময় চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন মাঠে নিয়মিত ফুটবল টুর্নামেন্ট হতো, দর্শকের ঢল নামত। সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের আয়োজন আরও বেশি হওয়া প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, তরুণদের মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। প্রতিটি এলাকায় খেলার মাঠ সংরক্ষণ ও খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। শুধু বড় শহর নয়, প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিভাবান খেলোয়াড়দেরও সুযোগ করে দিতে হবে।
স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুধু একটি খেলা হয় না, একটি এলাকার মানুষকে একত্র করা যায়। পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। তাই নিয়মিত এমন আয়োজনের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গার ক্রীড়াঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে। তরুণ খেলোয়াড়দের উদ্দেশে তিনি বলেন, জয়-পরাজয় খেলার অংশ। ভালো খেলাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মাঠে প্রতিপক্ষকে সম্মান করতে হবে, শৃঙ্খলা মেনে খেলতে হবে এবং প্রতিভাকে পরিশ্রমের মাধ্যমে আরও বিকশিত করতে হবে।


