নিজস্ব প্রতিবেদক:
আলমডাঙ্গা উপজেলার খাসকররা ইউনিয়নের রামদিয়া কায়েতপাড়া ফুটবল মাঠে শুরু হয়েছে ঘরোয়া ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬। দীর্ঘদিন পর মাঠে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলকে ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ। এবারের আসরে ছয়টি দল অংশ নিচ্ছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটায় টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা। উদ্বোধনী ম্যাচে দুই দলের খেলোয়াড়দের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে খেলা। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মোমিন মালিতা বলেন, প্রত্যেকটি খেলার মাঠেরই নিজস্ব ইতিহাস ও সোনালি অতীত রয়েছে। রামদিয়া কায়েতপাড়া ফুটবল মাঠেরও একটি ঐতিহ্য রয়েছে। এই মাঠের খেলা চুয়াডাঙ্গা ও আশপাশের দুই জেলার ক্রীড়াপ্রেমীদের দীর্ঘদিন ধরে আনন্দ দিয়ে আসছে। তিনি বলেন, একসময় খেলার মাঠগুলো মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। এখন আবার মাঠগুলোতে প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে। তরুণদের খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পারলে মাদক ও নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে তাদের দূরে রাখা সম্ভব। মোমিন মালিতা আরও বলেন, যেকোনো ধরনের খেলাধুলার প্রসারে সরকার, রাজনৈতিক দল ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। খেলাধুলার প্রতি বর্তমান সরকারের গুরুত্ব দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক নওরোজ মোহাম্মদ সাঈদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন খাসকররা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশিদ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সবুজ সাথী যুব সংঘের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ, টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির সভাপতি রশীদ আলী, সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির মৎস্যজীবীবিষয়ক সম্পাদক আনছার আলী জোয়ার্দ্দার এবং খাসকররা ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হোসেন আলী জোয়ার্দ্দার মুন্না। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক কাজী মোস্তাফিজুর রহমান পিন্টু।
খেলায় রেফারির দায়িত্ব পালন করছেন আলমগীর আলম, সেন্টু ও সরোয়ার। উদ্বোধনী ম্যাচ ২-২ গোলে ড্র হওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলেছে টুর্নামেন্টের শুরুতেই। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ছয় দলের লড়াই দেখতে মুখিয়ে আছেন স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা।


