আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰একক প্রস্তুতি জামায়াতের , এনসিপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার শঙ্কা📰দর্শনা-লোকনাথপুর সড়কে রাতের আঁধারে গাছ কেটে ফেলে রাখায় রহস্য ঘনীভূত📰আলমডাঙ্গার প্রাপগপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দু’পক্ষের আহত ৭ 📰চুয়াডাঙ্গায় নজরুল উৎসবের পঞ্চম দিনে মঞ্চস্থ রিক্তের বেদন📰চুয়াডাঙ্গার ভান্ডারদহে গৃহবধূকে আহত করে সোনার চেইন ছিনতাই📰আলমডাঙ্গা পরোয়ানাভুক্ত নারীসহ ৪ জন গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার📰দর্শনায় কাঠ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখমের অভিযোগ📰চুয়াডাঙ্গায় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত📰দামুড়হুদায় বুলডেজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো দুই অবৈধ ইটভাটা📰মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ১৪ বছরেও ফেরেননি গাংনীর নিখোঁজ চারজন
হোম পেজআইন আদালতচুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে পুলিশের পৃথক অভিযানে গাঁজাসহ আটক ৭

চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে পুলিশের পৃথক অভিযানে গাঁজাসহ আটক ৭




দামুড়হুদা অফিস:

দামুড়হুদায় পুলিশের পৃথক দুটি বিশেষ অভিযানে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেপ্তার হওয়া এক আসামিকে সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতিতে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেজবাহ উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে গতকাল শনিবার সকালে থানার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তার সোহাগ হাসান দশমীপাড়া গ্রামের মহর আলী মন্ডলের ছেলে।
অভিযানের প্রথমটি পরিচালনা করেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মানজেরুল হাসান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশের একটি দল দশমীপাড়া গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় নিজ বাড়ির উঠান থেকে সোহাগ হাসান ওরফে ইন্তাজ (৩২) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে সোহাগ হাসানের দেহ তল্লাশি করা হয়। এ সময় তার পরনে থাকা লুঙ্গির কোচর থেকে ৮ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে ওই গাঁজা জব্দ করা হয়। পরে তাকে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচারের জন্য সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (সংক্ষিপ্ত বিচার আদালত) হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়। অন্যদিকে, একই দিনে পুলিশের আরেকটি দল অভিযান চালিয়ে একটি মামলার এজাহারনামীয় আসামি রকিকে (৩৮) গ্রেপ্তার করে। থানার এসআই মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রকি দামুড়হুদা মডেল থানার মামলা নম্বর ০১, তারিখ ২ অক্টোবর ২০২৬-এর এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি। তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৩২৩ ও ৫০৬ ধারায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়। রকি দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা (মাঝেরপাড়া) গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে।
দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেজবাহ উদ্দিন বলেন, থানার এলাকায় মাদকদ্রব্য ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি চোরাকারবারি, মাদক ক্রয়-বিক্রয়কারী, দস্যুতা, ছিনতাই ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত এবং অবৈধ অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
অপরদিকে, পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও গাঁজাসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ। পরে তাদের সামারি ট্রায়ালের জন্য আদালতে পাঠানো হলে তাৎক্ষণিক বিচারে দুজনকেই কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় মাদক ও চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের সব ইউনিটে একযোগে বিশেষ অভিযান চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল শনিবার সদর থানা এলাকায় পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করা হয়।
প্রথম অভিযানে সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অনুজ কুমার সরকারের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা চুয়াডাঙ্গা শহরের বড়বাজার গোলচত্বর এলাকার পাকা সড়কে অভিযান চালান। এ সময় মাদকদ্রব্য ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট হেফাজতে রেখে সেবনের অভিযোগে ইয়াসিন আলী (২২) নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পৌর এলাকার ইসলামপাড়ার মনিরুল ইসলামের ছেলে। পুলিশের দাবি, ইয়াসিন আলীর হেফাজত থেকে একটি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জব্দ তালিকার মাধ্যমে ট্যাবলেটটি জব্দ করা হয়। পরে ইয়াসিন আলীর বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণির ২৯(ক) ও ৩৬(৫) ধারায় সামারি ট্রায়াল প্রসিকিউশনের জন্য আদালতে পাঠানো হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। অন্যদিকে, সদর ফাঁড়ির এসআই আকরাম হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের আরেকটি দল সদর থানার বেলগাছী মুসলিমপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। শনিবার রাত ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে বেলগাছী রেলগেটসংলগ্ন পাকা সড়ক থেকে কাজী আফরোজ অপু (৪৬) নামের এক ব্যক্তিকে গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চুয়াডাঙ্গা শহরের গুলশানপাড়ার মৃত আব্দুল বারীর ছেলে। পুলিশ জানায়, আফরোজ অপুর কাছ থেকে দুই পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এর মোট ওজন ৯ গ্রাম। পরে জব্দ তালিকা তৈরি করে ওই মাদক জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একই আইনের ৩৬(১) সারণির ২৯(ক) ও ৩৬(৫) ধারায় সামারি ট্রায়ালের জন্য আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক কেনাবেচা, বহন ও সেবনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আলমডাঙ্গা অফিস জানিয়েছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছী ইউনিয়নের কেদারনগর গ্রামে মধ্যরাতে পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে তিনজন গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার দিনগত রাত ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত টানা দুই ঘণ্টার অভিযানে ৭০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে সরাসরি উপস্থিত থেকে নেতৃত্ব দেন আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম। গ্রেফতার তিনজন হলেন উপজেলার কেদারনগর গ্রামের আইয়ুব আলী গঙ্গার ছেলে আলী হোসেন পান্না (৪২), মৃত আরজ আলীর ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (৫০) এবং খায়রুল ইসলামের ছেলে সাজিম (১৯)। তারা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা। পুলিশের দাবি, তাদের হেফাজত থেকে ৭০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ারের সার্বিক দিক-নির্দেশনায় এবং ওসি মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে এসআই আমিনুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে কেদারনগরে অভিযান পরিচালনা করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আলী হোসেন পান্নার বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ৭০ পিস ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার করা হয়। অভিযান চলাকালে রাজা ও সম্রাট নামে আরও দুজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা করা হলেও তারা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মধ্যরাতের এ অভিযানে তিনজন গ্রেফতার হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কেদারনগরে মাদক নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগের মধ্যে পুলিশের এমন আকস্মিক ও সরাসরি তৎপরতা প্রশংসনীয়। তারা পলাতক রাজা ও সম্রাটকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি কেদারনগর ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় গ্রেফতার তিনজনসহ আরও তিনজন এজাহারনামীয় আসামি এবং অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনের বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন , ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ২৯(ক)/৪০/৪১ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম বলেন , মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। কেদারনগরে মাদকবিরোধী অভিযানে আমি নিজেই সরাসরি উপস্থিত ছিলাম। অভিযানের সময় ট্যাপেন্টাডলসহ তিনজনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। পলাতকদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ