আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰একক প্রস্তুতি জামায়াতের , এনসিপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার শঙ্কা📰দর্শনা-লোকনাথপুর সড়কে রাতের আঁধারে গাছ কেটে ফেলে রাখায় রহস্য ঘনীভূত📰আলমডাঙ্গার প্রাপগপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দু’পক্ষের আহত ৭ 📰চুয়াডাঙ্গায় নজরুল উৎসবের পঞ্চম দিনে মঞ্চস্থ রিক্তের বেদন📰চুয়াডাঙ্গার ভান্ডারদহে গৃহবধূকে আহত করে সোনার চেইন ছিনতাই📰আলমডাঙ্গা পরোয়ানাভুক্ত নারীসহ ৪ জন গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার📰দর্শনায় কাঠ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখমের অভিযোগ📰চুয়াডাঙ্গায় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত📰দামুড়হুদায় বুলডেজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো দুই অবৈধ ইটভাটা📰মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ১৪ বছরেও ফেরেননি গাংনীর নিখোঁজ চারজন
হোম পেজজাতীয়আওয়ামী লীগ কি ফিরছে রাজনীতিতে; না-কী আরও দীর্ঘ হচ্ছে অপেক্ষা

আওয়ামী লীগ কি ফিরছে রাজনীতিতে; না-কী আরও দীর্ঘ হচ্ছে অপেক্ষা




ঢাকা অফিস:

দেশের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ আবার রাজনীতিতে ফিরতে পারবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলটির নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ‘যেকোনো মূল্যে’ দেশে ফেরার আলটিমেটাম, বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ঝটিকা মিছিল, গ্রেপ্তার এবং সংঘর্ষের ঘটনাকে ঘিরে বিষয়টি গত কয়েক মাস ধরেই আলোচনায় ছিল। এর সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ চাওয়ার বিষয়টি সামনে আসায় ‘রাজনৈতিক সমঝোতা’ ও ‘রিকনসিলিয়েশন’ নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। বিশেষ করে গত ৫ আগস্ট ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার ভাষণের পর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এরই মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ-সংক্রান্ত বিচারিক প্রক্রিয়া চলছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সমঝোতার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে আরেকটি পক্ষ বলছে, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও সহিংসতার বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নই উঠতে পারে না। সবশেষ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, কোনো রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতায় যাওয়ার আগে প্রথম ও মৌলিক শর্ত হলো নিজেদের অপরাধের সুনির্দিষ্ট স্বীকৃতি দেওয়া এবং সে জন্য অনুতপ্ত হওয়া। এই প্রাথমিক শর্ত পূরণ ছাড়া সমঝোতার প্রশ্নই ওঠে না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগকে আগে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করতে হবে। কেউ যদি ‘রিকনসিলিয়েশন’ বা পুনর্মিলন চান, তাহলে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেই প্রক্রিয়া শুরুর মৌলিক জায়গাটি নিশ্চিত করতে হবে। তবে একমুখী ও উসকানিমূলক পরিস্থিতিতে সমঝোতার আলোচনা এগিয়ে নেয়া কার্যত অসম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তবে তথ্য উপদেষ্টা একই সঙ্গে বলেছেন, জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এই বক্তব্যকে কেউ কেউ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, অপরাধ স্বীকার ও অনুশোচনার শর্ত সামনে রেখে সরকার ভবিষ্যতে একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দরজা খোলা রাখছে।
অন্য পক্ষ অবশ্য বিষয়টিকে এতটা সরলভাবে দেখছে না। তাঁদের মতে, জুলাইয়ের ভূমিকার জন্য আওয়ামী লীগ এখনই অনুতপ্ত হবে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন। আবার অনুতপ্ত হলেও বিএনপি সরকার দলটির সঙ্গে সমঝোতায় যাবে কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়। এ ক্ষেত্রে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) জুলাইয়ের আন্দোলনের পক্ষের শক্তিগুলোর অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই প্রকাশ্য রাজনৈতিক ময়দানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম অনেকটা স্তব্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আন্দোলনের মুখে ২০২৫ সালের ১১ মে ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯’ সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। পরদিন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। একই সময়ে নির্বাচন কমিশনে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল করা হয়। তবে দলটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়নি। অবশ্য আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠন যুবলীগকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করার পরও আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। গত ৮ এপ্রিল অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ওই অধ্যাদেশ ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ হিসেবে জাতীয় সংসদে পাস হয়। বিলটিতে আগের বিধানে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। এর মধ্যেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ঝটিকা মিছিলের ঘটনা ঘটছে। এসব মিছিল থেকে অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কোথাও কোথাও মিছিলকারীরা পুলিশ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন।
আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির সরকার কোনো ধরনের সমঝোতায় যাবে কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কারণ, সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্যে এ বিষয়ে একধরনের ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। গত সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীতে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর ‘বিচার, জবাবদিহিতা ও জাতীয় সমঝোতা’ শীর্ষক অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত না করে ক্ষমতাচ্যুত ও রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো জাতীয় সমঝোতা হতে পারে না। অন্যদিকে তথ্য উপদেষ্টা বলেছেন, অপরাধ স্বীকার করলে সমঝোতার আলোচনা হতে পারে। আবার গত ৫ আগস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে ২০২৪ সালে এবং ‘দাফন হবে দিল্লিতে’।
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্যকে রাজনৈতিক অঙ্গনে ধোঁয়াশা হিসেবে দেখছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সারোয়ার তুষার। তার মতে, সরকার আওয়ামী লীগকে কীভাবে সমঝোতায় আনতে চায়, সেটি আগে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ গঠনের কথা বলা হলেও এর বাস্তব অগ্রগতি নেই। এ বিষয়ে বিএনপি এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না; জনগণই বিষয়টি দেখবে।
বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সহ-সম্পাদক নিলোফার চৌধুরী মনি অবশ্য বলেছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সরকার সমঝোতা করবে কি না, সেটি পরের বিষয়। দলটির বিচারকাজ আদালতে চলছে। বিচার সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের রাজনীতিতে ফেরার প্রশ্ন সামনে আসবে। রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে আরেকটি বড় প্রশ্নÑদলটি কি জুলাইয়ের ঘটনাবলির জন্য অনুতপ্ত হবে বা জনগণের কাছে ক্ষমা চাইবে?
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার মতে, এখনই বলা সম্ভব নয় আওয়ামী লীগ নিজেদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইবে কি না। তবে একটা পর্যায়ে দলটি নিজেদের অপরাধ স্বীকার করতে পারে। শাস্তিও হতে পারে। শেষ পর্যন্ত তারা রাজনীতিতে ফিরতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।
তবে আওয়ামী লীগের ক্ষমা চাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় রয়েছে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ক্বাফী রতন বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লীগ এখনো অনুতাপ স্বীকার করেনি। তাঁর মতে, এ ধরনের অপরাধ করে শুধু দুঃখ প্রকাশ করলেই ক্ষমা করে দেয়া যায় না। যেহেতু মামলা চলমান, সেখানেই বিষয়টির ফয়সালা হওয়া উচিত।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তার অভিযোগ, বিএনপি জুলাইয়ের শহীদদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং বিভিন্নভাবে ফ্যাসিবাদকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, বিএনপি যদি পর্দার অন্তরালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো সমঝোতা করে থাকে, তবুও জনগণ তা মেনে নেবে না এবং এর জন্য বিএনপিকে জবাবদিহি করতে হবে।
সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এ রাজনৈতিক বিরোধ ও সংঘাত নিরসনে ‘রিকনসিলিয়েশন’ বা পুনর্মিলনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা হয়েছে। সেখানে অংশ নেওয়া বক্তাদের অনেকেই মনে করেন, অপরাধের বিচার যেমন প্রয়োজন, তেমনি দীর্ঘমেয়াদে সমাজের বিভাজন ও রাজনৈতিক বৈরিতা কাটিয়ে উঠতেও পুনর্মিলন জরুরি। তবে সেই পুনর্মিলনের আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধের বিচার, যৌথ তদন্ত, ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ এবং অপরাধীদের অনুশোচনা ও শাস্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ বিচার ও জবাবদিহিকে পাশ কাটিয়ে শুধু রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে পুনর্মিলন সম্ভব নয়Ñএমন মতই সেখানে জোরালো হয়েছে।
ইমেরিটাস অধ্যাপক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ারউল্লাহ্ চৌধুরী মনে করেন, জুলাইয়ের পক্ষের শক্তির সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না। তবে যারা গুরুতর অপকর্মের সঙ্গে সরাসরি জড়িত নয়, আওয়ামী লীগ তাদের মধ্যে যারা নিজেদের ভুল ও অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হয়ে প্রকাশ্যে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইবে, তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার অবশ্য পুনর্মিলনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। তার মতে, বিভক্ত জাতি কখনো বেশি দূর এগোতে পারে না। তবে রিকনসিলিয়েশন তখনই সম্ভব, যখন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো খোলামনে সামনে এসে নিজেদের দোষ স্বীকার করবে, অনুশোচনা প্রকাশ করবে এবং অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। এখন পর্যন্ত তিনি এর কোনো লক্ষণ দেখছেন না। বরং প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতিই বেশি দৃশ্যমান বলে মনে করেন তিনি।
লেখক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজের মতে, বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় রিকনসিলিয়েশন কঠিন হলেও এটিই প্রয়োজন। তার ভাষায়, পুনর্মিলন না হলে দেশ প্রতিশোধের চক্রে আটকে থাকবে। ফলে বিজয়ী পক্ষ হিসেবেও সরকারের দায়িত্ব রয়েছে একটি পুনর্মিলন প্রক্রিয়া শুরুর উদ্যোগ নেওয়ার। রাষ্ট্রপতি কিংবা সংসদ থেকেও এ উদ্যোগ আসতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তবে একই আলোচনায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্পষ্ট করে দিয়েছেনÑআগে ফ্যাসিস্টদের বিচার, এরপর রিকনসিলিয়েশন। তার মতে, সহিংসতা সৃষ্টিকারীদের আইনি পরিণতি থেকে আড়াল করার চেষ্টা থাকলে পুনর্মিলন প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নটি এখন আর কেবল একটি দলের ভবিষ্যৎ নয় এটি বিচার, জবাবদিহি, রাজনৈতিক অধিকার, গণঅভ্যুত্থানের দায় এবং দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত একটি জটিল প্রশ্ন। একদিকে রয়েছে অপরাধের বিচার ও ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচারের দাবি, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক বিভাজন কাটিয়ে স্থিতিশীলতার প্রয়োজনীয়তা। ফলে সামনে পথটি সমঝোতার হবে, নাকি বিচার ও জবাবদিহির মধ্য দিয়ে পুনর্মিলনেরÑসেটিই এখন বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম বড় প্রশ্ন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ