নিজস্ব প্রতিবেদক:
জীবননগর ও দামুড়হুদায় মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে ৭৩টি ইয়াবা ও ৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জীবননগর থানার মহানগর দক্ষিণপাড়া ও চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে জীবননগরের মহানগর দক্ষিণপাড়ায় জাহিদ হাসান (৩৭) নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। তার দখলে থাকা উত্তর ভিটায় দক্ষিণমুখী দুই কক্ষের একতলা ভবনের মাঝের কক্ষে রাখা কাঠের আলমারির মাঝখানের বাঁ পাশের ড্রয়ার থেকে পলিথিনে মোড়ানো কমলা রঙের ৭০টি ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়। এসব ইয়াবার মোট ওজন সাত গ্রাম। ডিএনসি জানিয়েছে, উদ্ধার করা ইয়াবাগুলোতে মিথাইল অ্যামফিটামিন রয়েছে। জাহিদ হাসান জীবননগর উপজেলার মহানগর দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম নুরুল ইসলাম। এছাড়া অভিযানে আলেয়া বেগম (৪০) নামের এক নারীর কাছ থেকে ৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। তিনি জীবননগর বাজারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। অন্যদিকে দামুড়হুদা উপজেলার রুদ্রনগর এলাকার রশিদুল ইসলামের (৩৫) কাছ থেকে তিনটি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে জয়রামপুর শেখপাড়া এলাকার বাদশাকে (৪৫) মাদক সেবনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএনসির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার চারজন হলেন জীবননগরের মহানগর দক্ষিণপাড়ার জাহিদ হাসান, জীবননগর বাজারপাড়ার আলেয়া বেগম, দামুড়হুদার রুদ্রনগরের রশিদুল ইসলাম এবং জয়রামপুর শেখপাড়ার বাদশা। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে জীবননগর থানায় নিয়মিত মামলা করেন। মামলার পর আদালতের কার্যক্রমে আলেয়া বেগমকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালত এ দণ্ড দেন। রশিদুল ইসলামকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং বাদশাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আদালত পৃথকভাবে এ দণ্ডাদেশ দেন। তবে জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে মামলার পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পর্কে ডিএনসির দেয়া তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।
চুয়াডাঙ্গা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।


