নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গার দীননাথপুর, গাইদঘাটসহ কয়েকটি গ্রামের ওপর দিয়ে হঠাৎ বয়ে যাওয়া কয়েক মিনিটের প্রচণ্ড ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আকস্মিক ঝড়ে গাছপালা উপড়ে পড়ার পাশাপাশি বেশ কিছু ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মুহূর্তের ঝাপটায় এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়ে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলের এ ঝড়ে স্থানীয় রেললাইনের ওপর বড় বড় গাছ ভেঙে পড়ে। এতে চুয়াডাঙ্গার সঙ্গে রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে রেলকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে রেললাইন থেকে গাছপালা সরিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার হঠাৎ করেই আকাশের পরিস্থিতি বদলে যায়। এরপর কয়েক মিনিটের জন্য প্রচণ্ড গতিতে ঝড় বয়ে যায় দীননাথপুর, গাইদঘাটসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের ওপর দিয়ে। ঝড়ের তীব্রতায় বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে এবং অনেক গাছের ডালপালা ভেঙে যায়। কোথাও কোথাও ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঝড়ের সময় রেললাইনের ওপর কয়েকটি বড় গাছ ভেঙে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। রেললাইনে গাছ পড়ে থাকায় চুয়াডাঙ্গার সঙ্গে রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রেললাইনের ওপর গাছ পড়ে থাকার সময় একটি ট্রেন সেখানে এসে পৌঁছায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় ট্রেনটি সতর্কতার সঙ্গে ভাঙা গাছের ওপর দিয়ে অতিক্রম করার চেষ্টা করে। পরে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ট্রেনটি থামিয়ে দেয়া হয়। এতে রেললাইনে গাছ পড়ে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা দ্রুত অপসারণের প্রয়োজন দেখা দেয়।
খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার অপেক্ষা না করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রেললাইনের কাছে ছুটে আসেন। তারা রেলকর্মীদের সঙ্গে গাছ ও ডালপালা সরানোর কাজে হাত লাগান। একপর্যায়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রেললাইনের ওপর পড়ে থাকা গাছপালা কেটে ও সরিয়ে ফেলা হয়। স্থানীয়দের সঙ্গে রেলকর্মীদের প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় রেললাইন পুরোপুরি পরিষ্কার করা সম্ভব হয়। এরপর ওই পথে ট্রেন চলাচল আবার শুরু হয়। বর্তমানে চুয়াডাঙ্গার সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক রয়েছে।
আকস্মিক এই ঝড়ে দীননাথপুর ও গাইদঘাটসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য, ঝড়ের স্থায়িত্ব ছিল খুবই কম, কিন্তু এর তীব্রতা ছিল অনেক বেশি। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে গাছপালা উপড়ে পড়ে এবং ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত এগিয়ে আসা এবং রেলকর্মীদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার কারণে রেললাইনের প্রতিবন্ধকতা দ্রুত অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। এতে দীর্ঘ সময় রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকার পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও এড়ানো গেছে।
এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মিজানুর রহমানের সরকারি নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।


