নিজস্ব প্রতিবেদক:
আলমডাঙ্গা উপজেলার রুইথনপুর গ্রামে জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় জমি দখল করে বেড়া দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। জমির দাবিদার আব্দুল জলিল মোল্লার অভিযোগ, প্রায় ১০ বছর ধরে জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চললেও মামলার নিষ্পত্তির আগেই প্রতিপক্ষ তার দখলে থাকা জমির চারপাশে বেড়া দিয়ে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছে। তবে প্রতিপক্ষের দাবি, তারা অন্যের জমি দখল করেনি, নিজেদের জমিই ঘিরে নিচ্ছে।
রুইথনপুর গ্রামের মৃত তারাচাঁদ মোল্লার ছেলে আব্দুল জলিল মোল্লা বলেন, প্রায় ৩৫ বছর আগে তিনি একই গ্রামের রসুল হোসেন, ইদ্রিস আলী ও চাহারন নেছার কাছ থেকে ৬৩ শতক জমি কেনেন। এর কয়েক বছর পর একই গ্রামের কাশেম আলী ও চাহারন নেছার কাছ থেকে আরও ৩৬ শতক জমি কেনেন। এসব জমি কেনার বৈধ দলিলপত্র তার কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। আব্দুল জলিলের ভাষ্য, জমি কেনার পর থেকেই তিনি সেখানে চাষাবাদ করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে তার দখলেই জমিগুলো ছিল। তবে প্রায় ১০ বছর আগে রুইথনপুর গ্রামের মৃত ইয়াছিন আলীর ছেলে আজিজুল ওরফে তাইজেল এবং তার ভাই তাহাজ্জেল ওই জমির মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা করেন। এরপর থেকে জমি নিয়ে বিরোধটি আদালতে গড়ায় এবং মামলাটি এখনো চলমান। আব্দুল জলিলের অভিযোগ, আদালতে মামলা নিষ্পত্তি না হলেও সম্প্রতি আজিজুল ও তার লোকজন তার দখলে থাকা জমির চারপাশে বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলেছেন। এতে তিনি জমির দখল হারানোর আশঙ্কা করছেন। তিনি বলেন, আমি প্রায় ৩৫ বছর আগে জমি কিনেছি। কেনার পর থেকে সেখানে চাষাবাদও করে আসছি। আদালত যদি আমার কেনা জমির দলিল অবৈধ প্রমাণ করে, তাহলে আমি নিঃশর্তভাবে জমির দখল ছেড়ে দেব। কিন্তু মামলা চলমান থাকা অবস্থায় কোনো পক্ষই জোর করে জমি দখল বা বেড়া দিয়ে ঘিরে নিতে পারে না।
এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করে আব্দুল জলিল বলেন, বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হলে বিরোধের জেরে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হবে না।
তবে আব্দুল জলিলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আজিজুল ওরফে তাইজেল। মৃত ইয়াছিন আলীর ছেলে আজিজুল বলেন, আমরা আব্দুল জলিল মোল্লার কাছে কোনো জমি বিক্রি করিনি। তিনি আমাদের অন্য শরিকদের জমি কিনেছেন। তিনি যতটুকু জমি দাবি করছেন, ততটুকু জমি কেনেননি। নিজেদের জমি ঘিরে দেয়ার দাবি করে আজিজুল বলেন, তাদের মালিকানাধীন জমিই তারা বেড়া দিয়ে ঘিরছেন। এতদিন ওই জমি আব্দুল জলিলের দখলে ছিল বলে তিনি স্বীকার করেন। মামলার নিষ্পত্তির আগেই জমি ঘিরে দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলা আদালতে চলমান রয়েছে এবং তারা আদালতের রায়ের অপেক্ষায় আছেন। তার আশা, মামলার রায় তাদের পক্ষেই আসবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রুইথনপুরে জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিরোধের জেরে বিষয়টি একপর্যায়ে আদালত পর্যন্ত গড়ায়। মামলা চলমান থাকার মধ্যেই নতুন করে জমিতে বেড়া দেয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।


