কার্পাসডাঙ্গা প্রতিনিধি:
চোখজুড়ে ছিল ভালো ফলনের স্বপ্ন। ধারদেনা করে জমি লিজ নিয়ে পাতাকপি চাষ করেছিলেন কৃষক শরিফুল ইসলাম (৩৮)। আশা ছিল, জমির ফসল বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করবেন, পরিবারের খরচ চালাবেন, কিছুটা স্বস্তি ফিরবে সংসারে। কিন্তু রাতের আঁধারে কে বা কারা তার জমির ফলন্ত পাতাকপি কেটে তছনছ করে দিয়েছে। এক রাতেই ভেঙে গেছে তার স্বপ্ন। এখন ফসল হারিয়ে কীভাবে সংসার চালাবেন, সেই দুশ্চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি। দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদহ ইউনিয়নের চারুলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার সকালে জমিতে গিয়ে নিজের ফলন্ত পাতাকপির এমন অবস্থা দেখে হতবাক হয়ে পড়েন শরিফুল। এতে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। শরিফুল ইসলাম চারুলিয়া গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শরিফুল একজন দরিদ্র কৃষক। ধারদেনা করে ফসল ফলানোর পর এভাবে তার জমির পাতাকপি নষ্ট করে দেয়ার ঘটনায় তারা ক্ষুব্ধ। তাদের ভাষ্য, এলাকায় কারও সঙ্গে শরিফুলের মারামারি বা শত্রুতার কথা তাদের জানা নেই। ভুক্তভোগী কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, লিজ নেয়া এক বিঘা জমিতে বাম্পার ফলনের আশায় পাতাকপি চাষ করেছিলাম। কিন্তু রাতের আঁধারে কে বা কারা জমিতে ঢুকে ফলন্ত পাতাকপি কেটে নষ্ট করে দিয়েছে। আমার স্বপ্ন নষ্ট করে দিয়েছে। এখন কীভাবে সংসার চালাব, সেই দুশ্চিন্তায় পড়েছি আমরা।
কৃষিকাজে জমি লিজ নেয়া থেকে শুরু করে বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও পরিচর্যাÑপ্রতিটি ধাপেই বিনিয়োগ করতে হয়। ধারদেনা করে এসব খরচ জোগানোর পর কৃষকের ভরসা থাকে জমির ফলন ও বিক্রির টাকার ওপর। শরিফুলের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি। এক বিঘা জমিতে ফলন্ত পাতাকপি দেখে তিনি ভালো আয়ের আশা করেছিলেন। কিন্তু ফসল কেটে নষ্ট করে দেয়ায় এখন তার বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন কৃষকের ফসল শুধু তার পরিশ্রমের ফল নয়, পরিবারের জীবিকা নির্বাহেরও অন্যতম অবলম্বন। এভাবে ফসল নষ্ট করা হলে কৃষক আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েন। তাই এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কৃষকের ফসলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। তারা আরও বলেন, রাতের আঁধারে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা খুঁজে বের করা প্রয়োজন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনারও দাবি জানান তারা। তবে কারা পাতাকপি কেটে নষ্ট করেছে, কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে কি না, তা-ও জানা যায়নি। ফসল ঘিরে কৃষকের যে স্বপ্ন, তা পূরণ হতে সময় লাগে কয়েক মাস। কিন্তু সেই ফসল এক রাতেই নষ্ট হয়ে গেলে কৃষকের সামনে নেমে আসে অনিশ্চয়তা। চারুলিয়া গ্রামের শরিফুল ইসলামের ক্ষেতের পাতাকপি নষ্ট হওয়ার ঘটনা আবারও কৃষকের ফসলের নিরাপত্তা ও গ্রামীণ পর্যায়ে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।


