জীবননগর অফিস:
নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় কেউ কাউকে হারাতে পারেনি। আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে উত্তেজনা ছড়িয়েছে পুরো মাঠে। শেষ পর্যন্ত খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেও দুই দলের লড়াই চলেছে সমানে সমান। ৯টি করে শট নেয়ার পর ৯-৮ গোলের ব্যবধানে খুলনা সান স্পোর্টিং ক্লাবকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আলমডাঙ্গা মন্ডল স্পোর্টস। গতকাল শুক্রবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থানা মডেল পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এমপি রুহুল আমিন মাদকবিরোধী গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। জীবননগর ক্লাব আয়োজিত ১৬ দলের নকআউট পদ্ধতির এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল ঘিরে মাঠে জড়ো হন হাজারো ফুটবলপ্রেমী। দর্শকদের উপস্থিতিতে মাঠের গ্যালারি ও আশপাশের এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।
ফাইনালে মুখোমুখি হয় আলমডাঙ্গা মন্ডল স্পোর্টস ও খুলনা সান স্পোর্টিং ক্লাব। খেলার শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে গোলের সুযোগ তৈরির চেষ্টা চলে দুই প্রান্তে। একের পর এক আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে দর্শকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো দলই প্রতিপক্ষের জালে বল জড়াতে পারেনি। পরে ম্যাচের নিষ্পত্তি হয় টাইব্রেকারে। সেখানেও দুই দলের খেলোয়াড়েরা দক্ষতা ও স্নায়ুর লড়াইয়ে নিজেদের সামর্থ্যের পরিচয় দেন। উভয় দলই নয়টি করে শট নেয়। শেষ পর্যন্ত ৯-৮ গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে আলমডাঙ্গা মন্ডল স্পোর্টস। টানটান উত্তেজনার এই ফাইনাল উপভোগ করেন মাঠে উপস্থিত হাজারো দর্শক।
খেলা শেষে অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির রুহুল আমিন। জীবননগর ক্লাবের সভাপতি মাজেদুর রহমান লিটনের সভাপতিত্বে ফাইনাল খেলার উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মহিউদ্দিন ও মাওলানা ইসরাইল হোসেন, জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক মফিজুর রহমান জোয়ার্দার, জীবননগর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা শাখাওয়াত হোসেন, উপজেলা আমির মাওলানা সাজেদুর রহমান, সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, পৌর জামায়াতের আমির হাফেজ ফিরোজ হোসেন এবং জীবননগর ক্লাবের সেক্রেটারি আরিফ জোয়ার্দারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, খেলাধুলা তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি মাদক থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তরুণদের সুস্থ বিনোদনের সুযোগ বাড়াতে নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন করা প্রয়োজন। ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলায় তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়লে তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, দলগত মনোভাব ও ইতিবাচক প্রতিযোগিতার চর্চা গড়ে উঠবে। তারা আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনতে এ ধরনের টুর্নামেন্ট কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়মিত প্রতিযোগিতার সুযোগ পেলে স্থানীয় খেলোয়াড়েরা নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি বৃহত্তর পরিসরে খেলার সুযোগও তৈরি করতে পারবেন। সুন্দর আয়োজনের জন্য তারা জীবননগর ক্লাবের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।
খেলায় প্রধান রেফারির দায়িত্ব পালন করেন সাইদুর রহমান সেন্টু। সহকারী রেফারি ছিলেন রবিউল ইসলাম ও আব্দুল হাই। মাদকবিরোধী বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এবং ফুটবলপ্রেমীদের জন্য সুস্থ বিনোদনের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। হাজারো দর্শকের উপস্থিতি আর দুই দলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ফাইনালটি হয়ে ওঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও উপভোগ্য।


