নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে চুয়াডাঙ্গা থেকে পাঁচ হাজার শ্রমিককে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানোর ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ। এ লক্ষ্যে কোরিয়ার একজন গভর্নরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় শ্রমিকদের নয় মাস কোরিয়ায় কাজ করতে হবে এবং তিন মাস দেশে অবস্থান করতে হবে। গতকাল রবিবার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) সভাকক্ষে ‘নিরাপদ অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শরীফুজ্জামান শরীফ। ‘দক্ষতা নিয়ে যাবো বিদেশ, রেমিট্যান্স দিয়ে গড়বো স্বদেশ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ সেমিনারে বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা অর্জন, ভাষা শিক্ষা এবং নিরাপদ অভিবাসনের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ মুছাব্বেরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক আব্দুল হালিম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। যে দেশে কাজ করতে যাবেন, সে দেশের ভাষা শিখে দক্ষ শ্রমিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারলে কাজের ক্ষেত্রে নানা ধরনের সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা কমে আসে। তিনি বলেন, আমরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখি, অনেকে শুধু একটি সার্টিফিকেট নেয়ার জন্য টিটিসিতে আসেন। ম্যানপাওয়ারের প্রক্রিয়া শেষ হলেই তারা বিদেশে চলে যান। কিন্তু শুধু সার্টিফিকেট নেয়ার জন্য নয়, দক্ষ শ্রমিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে টিটিসিতে আসতে হবে। দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, বিদেশে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কাজের প্রশিক্ষণ নেয়া জরুরি। এতে কর্মীরা বিদেশের কর্মক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের পাশাপাশি ভালোভাবে কাজ করার সুযোগ পাবেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর উদ্যোগের বিষয়ে শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, তিনি কোরিয়ার একজন গভর্নরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। চুয়াডাঙ্গা থেকে পাঁচ হাজার শ্রমিককে কোরিয়ায় কাজের সুযোগ করে দেয়ার ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় শ্রমিকদের ৯ মাস কোরিয়ায় কাজ করতে হবে এবং তিন মাস দেশে থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোরিয়ার ভাষা জানা বাধ্যতামূলক হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে এ উদ্যোগের বাস্তবায়ন, কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া, কাজের ধরন ও সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সেমিনারে জানানো হয়নি।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে নিরাপদ অভিবাসন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে। বিদেশে কাজ করতে আগ্রহীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। তারা আরও বলেন, দক্ষ জনশক্তি বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। প্রবাসী কর্মীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে। তাই বিদেশে যাওয়ার আগে প্রশিক্ষণ, কাজের উপযোগী দক্ষতা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিশ্চিত করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মঞ্জুরুল আলম মালিক লার্জ, সাধারণ সম্পাদক সুমন পারভেজ, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মানিক আকবর এবং জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিমসহ অন্যরা।


