আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰একক প্রস্তুতি জামায়াতের , এনসিপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার শঙ্কা📰দর্শনা-লোকনাথপুর সড়কে রাতের আঁধারে গাছ কেটে ফেলে রাখায় রহস্য ঘনীভূত📰আলমডাঙ্গার প্রাপগপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দু’পক্ষের আহত ৭ 📰চুয়াডাঙ্গায় নজরুল উৎসবের পঞ্চম দিনে মঞ্চস্থ রিক্তের বেদন📰চুয়াডাঙ্গার ভান্ডারদহে গৃহবধূকে আহত করে সোনার চেইন ছিনতাই📰আলমডাঙ্গা পরোয়ানাভুক্ত নারীসহ ৪ জন গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার📰দর্শনায় কাঠ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখমের অভিযোগ📰চুয়াডাঙ্গায় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত📰দামুড়হুদায় বুলডেজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো দুই অবৈধ ইটভাটা📰মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ১৪ বছরেও ফেরেননি গাংনীর নিখোঁজ চারজন
হোম পেজদেশের খবরখুলনা বিভাগকার্পাসডাঙ্গার আবাসন প্রকল্পে নাম থাকলেও ঘরছাড়া ফিরোজ

কার্পাসডাঙ্গার আবাসন প্রকল্পে নাম থাকলেও ঘরছাড়া ফিরোজ




কার্পাসডাঙ্গা প্রতিনিধি:

দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় সরকারি বরাদ্দের পাকা ঘরে বসবাস করতে পারছেন না ফিরোজ আলী। ঘরটির বরাদ্দে তার ও তার সাবেক স্ত্রী পারভীন আক্তারের নাম রয়েছে। প্রায় ১১ বছর একসঙ্গে সংসার করার পর পারভীনের সঙ্গে বিচ্ছেদ হলে ঘরটি থেকে বের হয়ে যেতে হয় ফিরোজকে। অভিযোগ, পরে ওই ঘরে হাসমতউল্লাহ নামে এক ব্যক্তির স্ত্রীকে থাকার ব্যবস্থা করে দেন পারভীন। ঘরের বরাদ্দে নাম থাকা সত্ত্বেও নিজের আশ্রয় হারিয়ে এখন কাজের সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছেন ফিরোজ। রাতে যেখানে কাজ পান বা আশ্রয় মেলে, সেখানেই কাটাতে হচ্ছে তাকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলার ফিরোজ আলীর সঙ্গে একই উপজেলার সুবুলপুর গ্রামের পারভীন আক্তারের বিয়ে হয় ২০১৫ সালে। দীর্ঘদিন তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সরকারি বরাদ্দের পাকা ঘরটিতে বসবাস করছিলেন। তবে গত সেপ্টেম্বর মাসে পারভীনের সঙ্গে ফিরোজের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটে। এরপর পারভীন দবির নামের এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগ, এ সময় ফিরোজকে ঘর থেকে বের করে দেয়া হয়। পরে ওই ঘরে অন্য একজনকে থাকতে দেয়া হয়।
মাঝবয়সী ফিরোজ আলীর হাতে এখন একটি ব্যাগ। মাথা গোঁজার স্থায়ী আশ্রয় না থাকায় কাজের সন্ধানে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরতে হচ্ছে তাকে। দিনের বেলায় যেখানে কাজ পান, সেখানেই কাটে সময়। আর রাত হলে খুঁজতে হয় ঘুমানোর জায়গা। সরকারি ঘরের বরাদ্দে নাম থাকার পরও সেখানে থাকতে না পারার বিষয়টি তার দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি ঘরটি যাদের নামে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, তাদের বসবাসের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। ঘরটিতে অন্য কাউকে থাকতে দেয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়া হয়েছিল কী-না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। কেউ কেউ ঘরটি টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করছেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি ঘরে বসবাসকারী এক ব্যক্তি বলেন, ফিরোজ আলী ও পারভীন আক্তার দীর্ঘদিন ওই ঘরে সংসার করেছেন। পরে পারভীন অন্য একজনকে বিয়ে করে ফিরোজকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন বলে শুনেছি। সরকারি ঘর দেয়ার সময় দুজনের নামই ছিল। এমন পরিস্থিতিতে একজন ঘরে থাকতে পারবেন না, আর অন্য কাউকে সেখানে থাকতে দেয়া হবেÑএটি ঠিক হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সরকারি বরাদ্দের ঘর নিয়ে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। ঘরটির প্রকৃত বরাদ্দ, সেখানে বসবাসের বর্তমান অবস্থা এবং অন্য কাউকে থাকতে দেয়ার পেছনে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়েছে কী-নাÑএসব বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে ফিরোজ আলী যেন তার প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, সে জন্য উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তাদের প্রত্যাশা, বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে সরকারি ঘরের বরাদ্দসংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ফিরোজ আলীর থাকার অধিকার ও ঘরটির বরাদ্দের শর্ত যাচাই করে তাকে যথাযথভাবে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও আশা করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন বলেন, সরকারি ঘর নিয়ে কোনো অনিয়ম করার সুযোগ নেই। কেউ অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ