দামুড়হুদা অফিস:
শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১২৮ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। উপজেলার ২০টি পূজামণ্ডপে আগামী ১৫ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের মোতায়েন রাখা হবে। এ উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের নিয়ে বিশেষ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালকের নির্দেশনায় এবং জেলা কমান্ড্যান্টের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, পূজামণ্ডপের ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তার দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। সাধারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত পূজামণ্ডপে দুজন নারী ভিডিপি সদস্যসহ মোট ছয়জন এবং অধিক ঝুঁকিপূর্ণ পূজামণ্ডপে দুজন নারী সদস্যসহ মোট আটজন আনসার ও ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। দুর্গাপূজা চলাকালে মণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়া হয়। দায়িত্ব পালনকালে কোনো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড, অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবহিত করার নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়া তাৎক্ষণিক ঘটনার প্রতিবেদন পাঠাতে ‘শারদীয় সুরক্ষা’ অ্যাপ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অ্যাপটির মাধ্যমে এন্ড ইউজার হিসেবে ঘটনাসংক্রান্ত তথ্য দ্রুত পাঠানোর নির্দেশনা দেয়া হয়, যাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।
ব্রিফিংয়ে দায়িত্ব পালনের সময় সঠিকভাবে ইউনিফর্ম পরিধান, সর্বোচ্চ সতর্কতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পেশাদারত্ব, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়। পূজামণ্ডপে আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতিতে সতর্ক থেকে দায়িত্ব পালনের বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, উপজেলা প্রশিক্ষিকা ফেরদৌসী আরা এবং উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের যথাযথ প্রস্তুতি, সতর্কতা ও সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে দুর্গাপূজার দিনগুলোতে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা সহজ হবে।


