আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰একক প্রস্তুতি জামায়াতের , এনসিপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার শঙ্কা📰দর্শনা-লোকনাথপুর সড়কে রাতের আঁধারে গাছ কেটে ফেলে রাখায় রহস্য ঘনীভূত📰আলমডাঙ্গার প্রাপগপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দু’পক্ষের আহত ৭ 📰চুয়াডাঙ্গায় নজরুল উৎসবের পঞ্চম দিনে মঞ্চস্থ রিক্তের বেদন📰চুয়াডাঙ্গার ভান্ডারদহে গৃহবধূকে আহত করে সোনার চেইন ছিনতাই📰আলমডাঙ্গা পরোয়ানাভুক্ত নারীসহ ৪ জন গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার📰দর্শনায় কাঠ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখমের অভিযোগ📰চুয়াডাঙ্গায় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত📰দামুড়হুদায় বুলডেজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো দুই অবৈধ ইটভাটা📰মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ১৪ বছরেও ফেরেননি গাংনীর নিখোঁজ চারজন
হোম পেজদেশের খবরখুলনা বিভাগলালনের বাণীতে সম্প্রীতির ডাক, বর্ণাঢ্য আয়োজনে সাধককে স্মরণ

চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুরে তিরোধান দিবস:

লালনের বাণীতে সম্প্রীতির ডাক, বর্ণাঢ্য আয়োজনে সাধককে স্মরণ




নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের বিভেদ ভুলে মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার শিক্ষা দিয়েছেন মরমি সাধক ফকির লালন সাঁই। তার মানবতাবাদী দর্শন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সাম্যের বাণী আজও সমাজ ও বিশ্বজুড়ে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। লালনের গান ও দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি তার আদর্শ চর্চার মধ্য দিয়ে মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় আয়োজিত লালন স্মরণানুষ্ঠানে। মরমি সাধক বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার বিকেল পাঁচটায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চে এ স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয় বাংলা লোকসংস্কৃতির এই অনন্য সাধককে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এসে শেষ হয়। পরে লালন সাঁইয়ের জীবন, দর্শন ও সাধনা নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা শেষে স্থানীয় ও আমন্ত্রিত শিল্পীদের পরিবেশনায় শুরু হয় লালনের কালজয়ী ভাবসঙ্গীতের সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। আলোচনা সভার শুরুতে লালন সাঁইয়ের জীবন ও সাধনার পরিচয় তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা বাউল কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মহিউদ্দিন শাহ। অরিন্দম সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিরন উর রশিদ শান্তর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, ফকির লালন শাহ বাংলা লোকসংস্কৃতি, মানবতাবাদ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক অনন্য সাধক। তার গান ও দর্শনে মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সাম্য, সম্প্রীতি এবং মানবিক মর্যাদার যে বার্তা রয়েছে, তা আজও মানুষকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। তার মানবতাবাদী দর্শন ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাণী সমাজ ও বিশ্বজুড়ে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তিনি আরও বলেন, লালন শাহ তার সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের বিভেদ ভুলে মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার শিক্ষা দিয়েছেন। তার দর্শন সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমান প্রজন্মের কাছে লালনের গান, জীবনদর্শন ও সাধনার মর্মবাণী পৌঁছে দেয়া সবার দায়িত্ব। লুৎফুন নাহার বলেন, এ ধরনের স্মরণানুষ্ঠান দেশের সমৃদ্ধ লোকঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। লালন শাহের মানবতাবাদী দর্শন ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়তা করতে পারে। তার গান ও সৃষ্টিকর্মের চর্চার মধ্য দিয়ে একটি মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্সি আবু সাঈফ এবং শহর বাউল একাডেমির সভাপতি নওয়াব আলী শাহ। তারা লালন সাঁইয়ের জীবনদর্শন, সাধনা ও গানের তাৎপর্য তুলে ধরেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি. এম. তারিক উজ জামান, দামুড়হুদা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শেখ মোহাম্মদ নুরুল্লাহ, জেলা পরিষদের প্রশাসক শরিফুজ্জামান শরীফ, জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার সাইফুল হাসান মিলন, জেলা জাসাসের সভাপতি শহিদুল হক বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিমসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বাউল শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী এবং লালন অনুরাগী ও দর্শনার্থী অংশ নেন। আলোচনা সভা শেষে শিল্পীদের কণ্ঠে একে একে পরিবেশিত হয় লালন সাঁইয়ের কালজয়ী ভাবসঙ্গীত। গানের সুর ও মরমি বাণীতে মুখর হয়ে ওঠে শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চ। লালনের মানবপ্রেম, সাম্য ও আত্মদর্শনের বাণীকে ধারণ করে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার মধ্য দিয়ে শেষ হয় স্মরণানুষ্ঠান।
মেহেরপুর অফিস জানিয়েছে, মরমি সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে মেহেরপুরে র‌্যালি, আলোচনা সভা ও লালনসংগীতের আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে লালনের মানবতাবাদী দর্শন, সাম্য, সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। সন্ধ্যায় লালনসংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে মুখর হয়ে ওঠে শহীদ শামসুজ্জোহা নগর উদ্যানের মফিজুর রহমান মুক্তমঞ্চ।
গতকাল শনিবার বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সামনে থেকে একটি র‌্যালি বের করা হয়। জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়ের নেতৃত্বে র‌্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ শামসুজ্জোহা নগর উদ্যানে গিয়ে শেষ হয়। এতে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তার উর্মিসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে বিকেলে নগর উদ্যানের মফিজুর রহমান মুক্তমঞ্চে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়ের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তার উর্মি। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার আলী হায়দার চৌধুরী (বিপিএম), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পার্থপ্রতিম শীল এবং মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাবলু সূত্রধর। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার সুজন রহমান। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন মেহেরপুর সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মইনুল ইসলাম ও জেলা জাসাসের সদস্যসচিব বাকা বিল্লাহ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, লালন সাঁইয়ের দর্শন মানুষে মানুষে বিভেদ ভুলে মানবিক সমাজ গঠনের শিক্ষা দেয়। জাত, ধর্ম, বর্ণ ও সামাজিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করার যে আহ্বান তার গান ও দর্শনে উঠে এসেছে, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। নতুন প্রজন্মের কাছে লালনের জীবনদর্শন ও মরমি সংগীতের তাৎপর্য তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বক্তারা আরও বলেন, লালনের গান শুধু সংগীতের অনুষঙ্গ নয়, বরং মানুষের আত্মপরিচয়, মানবিকতা ও সমাজের প্রচলিত বিভেদ নিয়ে গভীর চিন্তার ক্ষেত্র। তার সৃষ্টিকর্ম চর্চা ও সংরক্ষণের মধ্য দিয়ে সাম্য, সহনশীলতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।
আলোচনা সভা শেষে রাতে একই মুক্তমঞ্চে লালনসংগীতের আয়োজন করা হয়। এতে শিল্পী উম্মে আয়মান, রিপন দেশান্তর, সোনিয়া, জব্বার, নাজেরা, সোহেল রশিদ, তাহমিনা, সুখমান, আমজাদ, সেলিম, সামারুল ইসলাম ও বজলু লালনসংগীত পরিবেশন করেন। শিল্পীদের কণ্ঠে লালন সাঁইয়ের মরমি গান উপভোগ করেন উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা। গানের সুরে ও কথায় লালনের মানবতাবাদী ভাবনা, আত্মঅনুসন্ধান এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসার বার্তা ফুটে ওঠে।
দিনব্যাপী এসব কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন সদর থানার অফিসার ইনচার্জ হুমায়ুন কবীর, জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক আব্দুস সাত্তার, জেলা তথ্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ মাসুদ, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এনামুল হক, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফয়েজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক লিটন, রোমানা আহমেদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ