নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা শহরের হাসপাতাল রোডে ঝুঁকিপূর্ণ মেডিকেল বর্জ্যসহ সব ধরনের বর্জ্য একই বিনে রাখার দায়ে সানরাইজ মেডিকেল সেন্টার নামের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল রবিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে পরিচালিত অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার সুমিত বড়ুয়াকে এ জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে আগামী ১০ দিনের মধ্যে রঙভিত্তিক পৃথক বিন ব্যবহারসহ মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার আলাউদ্দিন আল আজাদের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে পরিবেশ অধিদপ্তরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সিনিয়র কেমিস্ট নরেশ চন্দ্র বিশ্বাস, পরিদর্শক নাইম হোসেন এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা অংশ নেন।
অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সানরাইজ মেডিকেল সেন্টারে ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্যসহ সব ধরনের বর্জ্য একই বিনে রাখা হচ্ছিল। এ কারণে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ৬(গ) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য ও আদায় করা হয়। অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক নাইম হোসেন প্রসিকিউশন দেন। মেডিকেল বর্জ্যের মধ্যে ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, সূচ, রক্তমাখা তুলা, ব্যান্ডেজ ও অন্যান্য সংক্রমণসৃষ্টিকারী উপাদান থাকতে পারে। এসব বর্জ্য সাধারণ বর্জ্যের সঙ্গে মিশে গেলে স্বাস্থ্যকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আশপাশের মানুষের জন্য সংক্রমণ এবং পরিবেশদূষণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই বর্জ্যের ধরন অনুযায়ী আলাদা পাত্রে সংগ্রহ ও নিরাপদ উপায়ে অপসারণ করা জরুরি। অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানটিকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কালার কোডেড বা রঙভিত্তিক পৃথক বিনের ব্যবহার নিশ্চিত করাসহ প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয় জানিয়েছে, মেডিকেল বর্জ্যের কারণে পরিবেশদূষণ রোধ এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


