খাসখবর ডেস্কঃ
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো ভুল পদক্ষেপ নিলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের ১২টি স্থানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্ভাব্য আকাশসীমা বন্ধ ও ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্নের আশঙ্কাও জানিয়েছে দেশটি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যে আলী আবদোল্লাহি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বহুবার ইরানের দৃঢ়তা ও সংকল্পের পরীক্ষা নিয়েছে। তবে প্রতিবারই তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, আগের প্রতিটি যুদ্ধে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটানো এবং ইরানকে বিভক্ত ও ধ্বংস করার স্লোগান নিয়ে যুদ্ধে নেমেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। কিন্তু এখন তারাই ধ্বংস ও পতনের মুখে পড়ছে, আর শক্তিশালী ইরান মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। ইরানের বিরুদ্ধে পরবর্তী কোনো ভুল পদক্ষেপ নেওয়া হলে আগের চেয়ে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর এই শীর্ষ কর্মকর্তা।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের ১২টি স্থানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত রোববার (১৮ অক্টোবর) জারি করা সতর্কতায় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, জর্ডান, বাহরাইন, ওমান, ইরান, কাতার, ইরাক, লেবানন, ইয়েমেন এবং ইসরায়েল ও অধিকৃত জেরুজালেমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
কাতারে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস নাগরিকদের সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ এবং ভ্রমণ বিঘ্নের বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছে। বিমান সংস্থা ও বিমানবন্দরের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং বিকল্প ভ্রমণ পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, আঞ্চলিক সংঘাত ও নিজেদের ভূখণ্ডে হামলার পরও ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে কাতার। দোহায় গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরামে দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী শেখ সউদ বিন আবদুর রহমান আল থানি এ কথা বলেন। তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে কাতারের আগে থেকেই আস্থার সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের যৌথ গ্যাসক্ষেত্রও এ সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। গত বছরের জুনে ইরানের হামলার আগে দুই দেশের মধ্যে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ২০২৫ সালে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান কাতারে হামলা চালায়। কাতারের রাস লাফান গ্যাস স্থাপনায় ওই হামলার ঘটনায় দোহা বিস্মিত হয়েছিল বলে জানান শেখ সউদ। তবে এরপর তেহরানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করেনি কাতার। বিভিন্ন পর্যায়ে দুই দেশের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং তাদের মধ্যে একটি অভিন্ন বোঝাপড়াও তৈরি হয়েছে।


