হাটবোয়ালিয়া থেকে কাজী কিরণ:
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। ইতোমধ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ও পাড়া-মহল্লায় পাঁচজনের নাম আলোচনায় এসেছে। তাদের রাজনৈতিক পরিচয়, অতীত নির্বাচনী অভিজ্ঞতা ও বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।
চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় থাকা পাঁচজন হলেনÑতিনবারের নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান ও আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি সানোয়ার হোসেন লাড্ডু, বর্তমান চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহান, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও চুয়াডাঙ্গা জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি কাইয়ুম উদ্দিন হিরক, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার জাহান ঝন্টু এবং আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল আলম ডালিম।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আলোচনায় থাকা পাঁচজনের মধ্যে তিনজন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান সানোয়ার হোসেন লাড্ডু, দেলোয়ার জাহান ঝন্টু ও আশরাফুল আলম ডালিম। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আলোচনায় রয়েছেন কাইয়ুম উদ্দিন হিরক। বর্তমান চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পরিচিত। সাবেক চেয়ারম্যান সানোয়ার হোসেন লাড্ডু এর আগে তিনবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাকে ঘিরে আলোচনা রয়েছে। অন্যদিকে বর্তমান চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহান দায়িত্বে থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তার নামও আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া বিএনপির জেলা পর্যায়ের নেতা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল আলম ডালিমের নাম নিয়েও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী কাইয়ুম উদ্দিন হিরকও চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় যুক্ত হয়েছেন।
এদিকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও এখনো নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা হয়নি। ফলে কে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেবেন, কারা দলীয় মনোনয়ন পাবেন কিংবা স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। স্থানীয়দের মতে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং দলীয় মনোনয়নপ্রক্রিয়া শুরু হলে ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়নের নির্বাচনী পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে নতুন করে আরও কয়েকজন প্রার্থী আলোচনায় আসতে পারেন। ফলে এখনকার পাঁচজনের বাইরেও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে ভাংবাড়ীয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আগাম আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন, তা নির্ভর করবে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও প্রার্থীদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।


