নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় টেনিসের মান উন্নয়ন এবং নতুন খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্যে নেয়া উদ্যোগে আশানুরূপ সাড়া মেলেনি। ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা ও প্রস্তুতির পর নতুন খেলোয়াড় বাছাইয়ে সাক্ষাৎকারের আয়োজন করেও পাওয়া গেছে মাত্র একজন আগ্রহী শিক্ষার্থীকে। নির্ধারিত সময়ে মাঠে উপস্থিত হননি অন্য কোনো শিক্ষার্থী কিংবা অভিভাবক। এতে জেলার টেনিসের ভবিষ্যৎ খেলোয়াড় তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটায় চুয়াডাঙ্গা টেনিস ক্লাব মাঠে নতুন খেলোয়াড় বাছাইয়ের জন্য এ সাক্ষাৎকারের আয়োজন করা হয়। ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সী তরুণদের টেনিস খেলায় আগ্রহী করে তোলা এবং ক্লাবে ভর্তি করার উদ্দেশ্যে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল।
ক্লাব সূত্রে জানা যায়, সাক্ষাৎকারে সম্ভাবনাময় তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আগে থেকেই প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়। কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা ছিল, জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা উপস্থিত হবেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে মাঠে এসে হাজির হন মাত্র একজন আগ্রহী খেলোয়াড়। তার নাম রাকিমুল ইসলাম রাকিম। সে চুয়াডাঙ্গা ভিক্টোরিয়া জুবিলী (ভি.জে.) সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ক্রীড়া পরিচালক রকিবুল ইসলাম রকিবের ছেলে রাকিমুলের উপস্থিতিই শেষ পর্যন্ত বাছাই কার্যক্রমের একমাত্র সাড়া হয়ে ওঠে। সাক্ষাৎকারের জন্য মাঠ প্রস্তুত থাকলেও অন্য কোনো শিক্ষার্থী বা অভিভাবকের উপস্থিতি না থাকায় ক্লাব কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। নতুন খেলোয়াড় তৈরির উদ্যোগে এমন অনাগ্রহে হতাশ হয়েছেন টেনিসসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
চুয়াডাঙ্গা টেনিস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাবিল হোসেন জোয়ার্দ্দার বলেন, নতুন খেলোয়াড়দের অভিভাবকের উপস্থিতিতে সাক্ষাৎকারে অংশ নেয়া এবং তাদের সম্মতি নিশ্চিত করার শর্ত রাখা হয়েছিল। শুধু খেলোয়াড় ভর্তি করাই নয়, তাদের মধ্যে ক্লাবের নিয়মকানুন, শৃঙ্খলা ও আদর্শ মেনে চলার মানসিকতা গড়ে তোলাও এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে মুঠোফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার, মাদক ও অপসংস্কৃতির প্রভাব থেকে তরুণদের দূরে রেখে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা জরুরি। টেনিসের মতো একটি শৃঙ্খলাপূর্ণ খেলায় যুক্ত হলে তরুণেরা শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনের সুযোগ পাবে। এত প্রস্তুতি ও প্রচারণার পরও একজন ছাড়া আর কেউ না আসায় তারা হতাশ।
সাবেক ক্রীড়া কর্মকর্তা, রেফারি ও টেনিস বিশেষজ্ঞ আবু জাফরও এ পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গার মতো ঐতিহ্যবাহী জেলায় আন্তর্জাতিক মানের খেলা টেনিসের প্রতি তরুণদের এমন অনাগ্রহ দুঃখজনক। মাত্র একজন খেলোয়াড়কে নিয়ে কীভাবে জেলার টেনিসের ভবিষ্যৎ খেলোয়াড় তৈরির ধারাবাহিকতা গড়ে উঠবে, সেটি এখন বড় প্রশ্ন। আবু জাফরের মতে, খেলোয়াড় তৈরির জন্য শুধু ক্লাবের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অভিভাবক ও ক্রীড়া সংগঠকদেরও এগিয়ে আসতে হবে। তরুণদের মধ্যে টেনিসের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে নিয়মিত প্রচার, প্রশিক্ষণ ও অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশঙ্কা, নতুন খেলোয়াড় তৈরির উদ্যোগে এমন অনাগ্রহ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে জেলা পর্যায়ে দক্ষ টেনিস খেলোয়াড় পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। অথচ পরিকল্পিত প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায় থেকেই জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। চুয়াডাঙ্গা টেনিস ক্লাবের এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য ছিল নতুন প্রজন্মের মধ্যে টেনিসের ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যতের খেলোয়াড় তৈরির একটি ধারাবাহিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা। কিন্তু প্রথম ধাপেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের এমন অনুপস্থিতি জেলার টেনিস অঙ্গনে নতুন করে ভাবনার অবকাশ তৈরি করেছে।


