ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি:
আলমডাঙ্গায় দরিদ্র কৃষকদের মধ্যে স্প্রে মেশিন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ব্যাগ এবং স্থানীয় ক্রীড়া ক্লাবগুলোর মধ্যে ফুটবল ও জার্সি বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এ কর্মসূচির আওতায় এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়। কৃষিকাজে সহায়তা, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহ দেয়া এবং তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনুর আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহেশ্বর মণ্ডল, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশ, নির্বাহী প্রকৌশলী মেজবাহুর রহমান ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন। এ ছাড়া বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে দরিদ্র কৃষকদের হাতে স্প্রে মেশিন তুলে দেয়া হয়। কৃষিকাজে এসব যন্ত্র ব্যবহার করে ফসলের পরিচর্যা ও বালাইনাশক প্রয়োগ সহজ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের মতে, কৃষকদের প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করা গেলে উৎপাদন কার্যক্রমে গতি আসবে এবং আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহারে তারা আরও উৎসাহিত হবেন।
অন্যদিকে, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ব্যাগ বিতরণ করা হয়। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহ দেয়া এবং শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় ক্রীড়া ক্লাবগুলোর মধ্যে ফুটবল ও জার্সি বিতরণ করা হয়। এর মাধ্যমে তরুণদের মাঠমুখী করা, নিয়মিত খেলাধুলায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়াচর্চার পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আয়োজকেরা।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও শাহীনুর আক্তার বলেন, কৃষি, শিক্ষা ও ক্রীড়াÑএই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে উন্নয়ন নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর। স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম আগামীতে আরও গতিশীল করা হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা কৃষি, শিক্ষা ও ক্রীড়া খাতের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন। তাদের মতে, কৃষকদের সহায়তার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ উন্নত করা এবং তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা হলে স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হবে। উপজেলা পরিষদের এ উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষক, শিক্ষার্থী ও ক্রীড়া সংগঠনের সদস্যরা উপকৃত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।


