আলমডাঙ্গা অফিস:
আলমডাঙ্গায় পুলিশের পৃথক অভিযানে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলার দুই আসামি ও মাদক মামলার তিন আসামিসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় দুই ব্যক্তির কাছ থেকে সাতটি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে রবিবার গ্রেফতার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশের প্রেস রিলিজে জানানো হয়েছে।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেনÑ উপজেলার জেহালা গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলী বিশ্বাসের ছেলে মিনহাজ উদ্দিন (৫৯), কেশবপুর গ্রামের মৃত তৈয়ব আলী মালিথার ছেলে আহাদ আলী (৫৭), গোবিন্দপুর ঈদগাহপাড়া এলাকার শুকুর আলী বিশ্বাসের ছেলে মুকুট আলী (৩৩), পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার গোকুলনগর গ্রামের আমজাদ খাঁর ছেলে সুজন আলী (৩৯) এবং আলমডাঙ্গার নওদা বন্ডবিল গ্রামের ওহিদুলের ছেলে শাহিন (৩৩)।
পুলিশ জানায়, চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় এবং আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জের তত্ত্বাবধানে এসআই মানিক কুমার শিকদার ও এসআই শীতল বিশ্বাস সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে পৃথক অভিযান চালান। শনিবার রাত ১১টার দিকে জেহালা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মিনহাজ উদ্দিনকে এবং রাত সাড়ে ১১টার দিকে কেশবপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে আহাদ আলীকে আটক করা হয়। আলমডাঙ্গা থানার মামলা নম্বর ০৩(৫)২৬-এর তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। মামলাটিতে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারার পাশাপাশি বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, ১৯০৮-এর ৩, ৪ ও ৬ ধারায় অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আলমডাঙ্গা নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি মুদি দোকানের সামনে অভিযান চালিয়ে মুকুট আলীকে গ্রেফতার করেন এসআই শাহরিয়ার হুসাইন রুবেল ও তার সঙ্গীয় ফোর্স। এ সময় তার হেফাজত থেকে ছয়টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সারণির ২৯(ক) অনুযায়ী সামারি ট্রায়াল প্রসিকিউশন নম্বর ১২৬ দায়ের করা হয়। একই রাতে ১০টার দিকে আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার ইকরা স্কুলের সামনে তারিক নামের এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে সুজন আলীকে গ্রেফতার করা হয়। এসআই শাহরিয়ার হুসাইন রুবেল ও তার সঙ্গীয় ফোর্স তাকে গ্রেফতার করেন। এ সময় তার কাছ থেকে একটি ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় সামারি ট্রায়াল প্রসিকিউশন নম্বর ১২৭ দায়ের করা হয়েছে।
এছাড়া শনিবার রাত ১১টার দিকে নওদা বন্ডবিল এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে থেকে শাহিনকে গ্রেফতার করেন এসআই তাইজুল ইসলাম ও তার সঙ্গীয় ফোর্স। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮’র সংশ্লিষ্ট ধারায় দায়ের করা আলমডাঙ্গা থানার মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার পাঁচজনকে গতকাল রবিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মামলায় আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


