আলমডাঙ্গা অফিস:
আলমডাঙ্গায় স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করে নিহত ইমদাদুল হকের (২৩) দাফন সম্পন্ন করেছে পরিবার। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ বাড়িতে নেয়া পরিবারের সদস্যরা। পরে বিকেলে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের পিতা রেজাউল হকের দায়ের করা মামলায় নাইস খন্দকারকে (২৪) একমাত্র আসামি করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। বুধবার রাত নয়টার দিকে আলমডাঙ্গা পৌর শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইমদাদুল নওদা বন্ডবিল গ্রামের রেজাউল হকের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করা নিয়ে ইমদাদুলের সঙ্গে নাইসের বিরোধ চলছিল। বুধবার রাতে বিষয়টি নিয়ে নাইসের বাবা-মায়ের কাছে অভিযোগ জানাতে তাদের বাড়িতে যান ইমদাদুল। এ সময় নাইস সেখানে এলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে নাইস কাঠের বাটাম দিয়ে ইমদাদুলের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন আহত ইমদাদুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করেন। তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়ায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী উজ্জ্বল হোসেন জানান, বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকা থেকে বাড়িতে এসেছিলেন ইমদাদুল। পরদিন রাতে শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করার বিষয়ে নাইসের বাবা-মাকে জানাতে তাঁদের বাড়িতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় নাইসের মাও উপস্থিত ছিলেন। তার দেয়া বক্তব্য স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার সঙ্গে মিলে যায়।
এদিকে, বৃহস্পতিবার নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে নাইস খন্দকারকে একমাত্র আসামি করে আলমডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করা হয়। আলমডাঙ্গা থানার মামলা নম্বর ১১, তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০২৬। এতে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, আলমডাঙ্গা থানার এসআই শীলত বিশ্বাস ও সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা বৃহস্পতিবার রাত ৩টা ১৫ মিনিটে থানার আওতাধীন লালব্রিজের ঢালু এলাকা থেকে নাইসকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে ইমদাদুলের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। বিকেলে গোবিন্দপুর নওদা বন্ডবিল স্থানীয় কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। স্বজনদের আহাজারিতে সেখানে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।


