আলমডাঙ্গা অফিস:
আলমডাঙ্গায় হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিসহ বিভিন্ন মামলায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় পাঁচ পুরিয়া গাঁজা ও নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ২০টি শাটারিং বাঁশ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে উপজেলার মধুপুর গ্রামে ছোট মণ্ডলের বাড়ির সামনে বাঁশঝাড়ের নিচে অভিযান চালায় জামজামি পুলিশ ক্যাম্পের একটি দল। এসআই ফিরোজ আলীর নেতৃত্বে এ অভিযানে পাঁচ পুরিয়া গাঁজাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ডাকবাংলা এলাকার শাহজাহানের ছেলে নাইম (২৫), লাল্টুর ছেলে আশির (২৫), মাহাতাব মণ্ডলের ছেলে অনিক মণ্ডল (২৩), আব্দুল হালিমের ছেলে জাহিদ হাসান (২৪) এবং আলমডাঙ্গার মধুপুর গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে আসাদ আলী (২৫)। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়। এদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার বাবুপাড়ায় বি-টিম মাঠসংলগ্ন হাফিজুর রহমান চমকের নির্মাণাধীন ভবনের সামনে অভিযান চালায় পুলিশ। এসআই আলমগীর কবীরের নেতৃত্বে এ অভিযানে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন আকারের ২০টি শাটারিং বাঁশ উদ্ধার করা হয়। বাঁশগুলোর আনুমানিক মূল্য আট হাজার টাকা। এ ঘটনায় কোটপাড়া গ্রামের মৃত আসাদুল হক বাদলের ছেলে আবু হোসেন বাপ্পা (৩৮) ও গোবিন্দপুর মাঠপাড়া গ্রামের মৃত আবুল মোল্লার ছেলে মিলন মোল্লাকে (৪৯) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের শুক্রবার আদালতে পাঠানোর কথা রয়েছে। অন্যদিকে, আলমডাঙ্গা থানা ও বিভিন্ন পুলিশ ক্যাম্পের পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন পারকুলা গ্রামের সোবহান আলীর ছেলে সোহেল রানা, বটিয়াপাড়া গ্রামের শহীদের ছেলে অমিত (২৭), ভোলারদাইড় গ্রামের আয়ুব আলীর ছেলে শাহীন আলী (৫০), ওসমানপুর গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে সবুজ ওরফে জেটি (২০) এবং আলমডাঙ্গা মাদ্রাসাপাড়ার হায়দার আলীর ছেলে বিল্লাল হোসেন (৪৭)। বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আলমডাঙ্গা থানায় দায়ের করা হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নাইস খন্দকারকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে আলমডাঙ্গার লাল ব্রিজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি গোবিন্দপুর নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকার মৃত মজনু খন্দকারের ছেলে। তার বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানার ১৫ অক্টোবর তারিখের ১১ নম্বর হত্যা মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগ রয়েছে। বৃহস্পতিবার তাকেও আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


