আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰একক প্রস্তুতি জামায়াতের , এনসিপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার শঙ্কা📰দর্শনা-লোকনাথপুর সড়কে রাতের আঁধারে গাছ কেটে ফেলে রাখায় রহস্য ঘনীভূত📰আলমডাঙ্গার প্রাপগপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দু’পক্ষের আহত ৭ 📰চুয়াডাঙ্গায় নজরুল উৎসবের পঞ্চম দিনে মঞ্চস্থ রিক্তের বেদন📰চুয়াডাঙ্গার ভান্ডারদহে গৃহবধূকে আহত করে সোনার চেইন ছিনতাই📰আলমডাঙ্গা পরোয়ানাভুক্ত নারীসহ ৪ জন গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার📰দর্শনায় কাঠ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখমের অভিযোগ📰চুয়াডাঙ্গায় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত📰দামুড়হুদায় বুলডেজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো দুই অবৈধ ইটভাটা📰মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ১৪ বছরেও ফেরেননি গাংনীর নিখোঁজ চারজন
হোম পেজসম্পাদকীয়এক রাতে একাধিক বাড়িতে চুরি, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

এক রাতে একাধিক বাড়িতে চুরি, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন




আলমডাঙ্গার খাদিমপুর ইউনিয়নের বটিয়াপাড়া পূর্বপাড়ায় একই রাতে পাশাপাশি একাধিক বাড়িতে চুরির ঘটনা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। রবিবার দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে কয়েকটি বাড়িতে ঢুকে চোরেরা ৮টি স্মার্টফোন, ৩টি বাটন ফোন, স্বর্ণালংকার ও হাতঘড়িসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। একই রাতে একই এলাকায় একাধিক বাড়িতে চুরির ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয় মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। চুরির ধরনটি বিশেষভাবে লক্ষ করার মতো। পরিবারের সদস্যরা যখন গভীর ঘুমে, তখন চোরেরা একের পর এক বাড়িতে ঢুকে মোবাইল ফোন ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। হালিম, আশিক, রিপন, মহাবুলসহ কয়েকজনের বাড়িতে চুরির পাশাপাশি লিপন নামের এক বাসিন্দার বাড়ি থেকে তিন জোড়া কানের দুল, একটি আংটি ও একটি হাতঘড়ি চুরি যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মিঠুনের বাড়িতেও চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। অর্থাৎ এটি নিছক একটি বাড়িতে চুরির ঘটনা নয় একই এলাকায় একই রাতে ধারাবাহিকভাবে একাধিক বাড়িতে চুরি হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা স্থানীয় নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে। অবশ্যই কোনো এলাকায় চুরি ঘটলেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাফিলতি হয়েছেÑএমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। তবে একই রাতে পাশাপাশি কয়েকটি বাড়িতে চুরি সংঘটিত হলে ঘটনার ধরন, সময়, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ, চোরদের সম্ভাব্য সংখ্যা এবং তাদের গতিবিধি খতিয়ে দেখা জরুরি। ঘটনাটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ কী-না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া দরকার। চুরির পর কমলাপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং পরে আলমডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। থানার অফিসার ইনচার্জ রাকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এখন প্রয়োজন কথার চেয়ে দ্রুত ও কার্যকর তদন্তের প্রতিফলন। চুরি যাওয়া মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করাই হওয়া উচিত পুলিশের প্রধান লক্ষ্য। চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো। কোনো একটি এলাকায় বারবার চুরি ঘটতে থাকলে মানুষের মধ্যে শুধু আর্থিক ক্ষতির ভয় নয়, ঘরবাড়িতে নিরাপদে ঘুমানোর ক্ষেত্রেও আতঙ্ক তৈরি হয়। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় অনেক বাড়িতে পর্যাপ্ত আলো, নিরাপত্তাব্যবস্থা কিংবা রাতের পাহারা থাকে না। এই দুর্বলতার সুযোগ নেয় অপরাধীরা। তাই পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও কিছু উদ্যোগ প্রয়োজন। পাড়া-মহল্লায় রাতের পাহারা জোরদার, সন্দেহজনক ব্যক্তির চলাচল সম্পর্কে দ্রুত পুলিশকে জানানো, বাড়ির দরজা-জানালা ও প্রবেশপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভব হলে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আলোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। মোবাইল ফোন ও মূল্যবান সামগ্রী ঘুমানোর সময় অসতর্কভাবে রেখে না দেয়ার বিষয়েও পরিবারগুলোকে সচেতন হতে হবে। তবে নাগরিকের সতর্কতা কখনোই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বের বিকল্প হতে পারে না। বটিয়াপাড়ার এই ঘটনা তাই দ্রুত তদন্তের দাবি রাখে। একই সঙ্গে আশপাশের এলাকাগুলোতেও রাতের টহল ও নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন, যাতে কোনো অপরাধীচক্র এ ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে আরও এলাকায় সক্রিয় হতে না পারে। অপরাধ সংঘটনের পর ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও স্থানীয় তথ্যব্যবস্থাকে কার্যকর করা জরুরি। মানুষের ঘর তার সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা। গভীর রাতে ঘুমন্ত মানুষের ঘরে ঢুকে চুরি হওয়ার ঘটনা সেই নিরাপত্তাবোধকেই আঘাত করে। তাই বটিয়াপাড়ার চুরির ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের উদ্যোগ এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ