কার্পাসডাঙ্গা প্রতিনিধি:
দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের আরামডাঙ্গা গ্রামে গভীর রাতে কৃষকের গোয়ালঘরে হানা দিয়ে দুটি গরু চুরির চেষ্টা করেছে সংঘবদ্ধ চোরচক্র। গরু নিয়ে পালানোর সময় টের পেয়ে এলাকাবাসী ধাওয়া দিলে চোরেরা একটি গাভী পুকুরে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে গাভীটি উদ্ধার করা গেলেও ছোট বকনা বাছুরটি নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় তারা। এ ঘটনায় গ্রামজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে আরামডাঙ্গা গ্রামের মৃত খোরশেদ আলীর ছেলে কৃষক লাল্টু মিয়ার গোয়ালঘরে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী লাল্টু মিয়া বলেন, প্রতিদিনের মতো রাতে তিনি দুটি গরু গোয়ালঘরে রেখে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত তিনটার দিকে চোরেরা গোয়ালঘরে ঢুকে একটি গাভী ও একটি বকনা বাছুর নিয়ে বেরিয়ে যায়। গরু নিয়ে চোরেরা পালানোর সময় বিষয়টি টের পান তিনি ও পরিবারের সদস্যরা। এরপর দ্রুত আশপাশের লোকজনকে খবর দিলে গ্রামবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে চোরদের পিছু নেন। লাল্টু মিয়া বলেন, ধাওয়া খেয়ে চোরেরা চারদিক থেকে ঘেরাও হওয়ার আশঙ্কায় পড়ে যায়। একপর্যায়ে মান্নান মিয়ার ইটভাটার অদূরে একটি পুকুরের কাছে গিয়ে তারা গাভীটি পুকুরে ফেলে দেয়। এরপর অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় পুকুর থেকে গাভীটি উদ্ধার করা হয়। তবে চোরদের একজন বা একাধিক সদস্য অন্য বকনা বাছুরটি নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ফলে একটি গরু ফিরে পেলেও প্রিয় বাছুরটি হারিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক লাল্টু মিয়া।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গভীর রাতে এমন ঘটনায় গ্রামের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। চোরদের ধাওয়া করে অন্তত একটি গরু উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাছুরটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সংঘবদ্ধভাবে চোরচক্রটি এলাকায় গরু চুরির চেষ্টা করেছে বলে তাদের ধারণা। লাল্টু মিয়া বলেন, এলাকাবাসী দ্রুত এগিয়ে না এলে দুটি গরুই হয়তো নিয়ে যেতে পারত চোরেরা। গাভীটি উদ্ধারে সহযোগিতা করায় তিনি এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে চুরি যাওয়া বকনা বাছুরটি উদ্ধারে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। এলাকাবাসীর দাবি, এলাকায় গরু চুরির সঙ্গে জড়িত চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। চোরচক্রের সদস্যদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা গেলে এ ধরনের ঘটনায় লাগাম টানা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করছেন।


